বদরগঞ্জ উপজেলার বৈরামপুর ধোপানীরঘাট মুন্সিপাড়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু উত্তোলন করার কারণে ওই গ্রামসহ আশ-পাশের আরো তিনটি গ্রাম, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একটি পাকা সড়ক হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করেছেন এলাকাবাসী। তবে বালু উত্তোলনকারী প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় এলাকার লোকজন তার বিরুদ্ধে কোথাও অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছেন না।
গত রবিবার দুপুরে প্রতিবেদক ওই গ্রামে গিয়ে বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গেলে এরশাদুল হক (৩০) নামের এক যুবক বাধা দেন। ওই যুবক বালু উত্তোলন ও বিক্রির দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। তিনি বলেন, এখানকার ছবি তোলা নিষেধ আছে। ফোন দিচ্ছি মালিক আসুক, তারপর ছবি তুলেন। ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে হাজির হন পুকুর মালিক রবিউল ইসলাম (৩০)। তিনি বলেন, ভাই, আপনি কি জন্য এখানে এসেছেন? আমি তো আমার জমি থেকে বালু উত্তোলন করছি। ক্ষতি হলে আমার পুকুরের হবে। উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে ধোপানীরঘাট মুন্সিপাড়া গ্রাম অবস্থিত। গ্রামের পাশ দিয়ে চলে গেছে নাগের হাট সড়ক। সড়ক থেকে ১০০ গজ দূরে ওই পুকুর থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। ওই পুকুর ঘিরে চারটি গ্রাম রয়েছে। পাশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও আছে।
এলাকার বাইতুল্লাহ বলেন, এক বছর ধরে পুকুরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করছেন রবিউল ইসলাম। এতে করে মুন্সিপাড়া, ডাক্তারপাড়া, কোসরপাড়া, বৈরামপুর গ্রাম, বৈরামপুর শান্তিরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশ-পাশের আবাদি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। এক ট্রলি বালু বিক্রি করা হচ্ছে ৫-৭শ’ টাকায়। এতে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার বালু বিক্রি করা হচ্ছে।
ওই পুকুরের পাশের জমির মালিক হযরত আলী ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বালু উত্তোলন করায় আমাদের জমি হুমকির মুখে পড়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধের কথা বললে তারা উল্টো আমাদেরকে হুমকি দেন।
একাধিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আবেদা গুলশানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ইত্তেফাক / এ এন