মহাপুলিশ পরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বলেছেন, যারা ভুল পথে গেছে, জঙ্গি পথে গেছে, তারা যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সহযোগিতা করবে। তবে তারা অতীতে কোনো অপরাধ করলে তাদের বিষয় ভিন্ন বলে জানান আইজিপি। জঙ্গিবাদে জড়িতদের কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যারা জঙ্গি বিস্তারে কাজ করছে, এ সব অশুভ শক্তিকে সম্মিলিতভাবে নির্মূল করা হবে। গতকাল বুধবার পুলিশ সদর দফতরে রাজধানীর গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় নিহত চার পুলিশ সদস্যের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।
পুলিশ প্রধান বলেন, নিহত পুলিশ সদস্যরা আমাদের ঋণী করে গেছেন। আইজিপি বলেন, নিহতদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য যা করা দরকার আমরা তাই করব।
অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গুলশান হামলায় নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার দিন আমাকে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে তারা নিজেরাই শহীদ হলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, যারা জঙ্গি হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে শহীদ হলেন তারা আমাদের জাতীয় বীর এবং দেশের অহঙ্কার। তাদের জীবনের বিনিময়ে আমরা এখন অনেক আস্থা ও সম্মান পাচ্ছি। এ জন্য নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের পাশে আছি আমরা।
ডিএমপি কমিশনার এ সময় তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, কিছু ‘কুলাঙ্গার’ ছাড়া দেশের সব মানুষ আপনাদের পাশে আছেন।
তিনি বলেন, নিহত চার পুলিশ সদস্যের পরিবারকে সহায়তা করতে ডিএমপি’র পক্ষ থেকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। ডিএমপির পুলিশ সদস্যরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। কিছুদিনের মধ্যেই এ টাকা নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিহত পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল করিমের ছোট ভাই সামছুজ্জামান ও নিহত পুলিশ কর্মকর্তা সালাউদ্দিন খানের স্ত্রী রেমকিম, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মঈনুর রহমান চৌধুরী ও কিশোরগঞ্জের পুলিশ আনোয়ার হোসেন।
৭০ লাখ টাকা অনুদান: গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত চার পুলিশ সদস্যের পরিবারকে ৭০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মা ও স্ত্রীকে সব মিলিয়ে ৯০ লাখ টাকার নগদ অর্থ ও সঞ্চয়পত্র তুলে দেওয়া হয়।
গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর সেখানে অভিযানে গিয়ে প্রাণ হারান এসি রবিউল করিম ও ওসি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। এর ছয়দিনের মাথায় গত ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের কাছে জঙ্গি হামলায় মারা যান কনস্টেবল আনসারুল হক ও জহিরুল হক।
পুলিশের পক্ষ থেকে রবিউলের মা করিমন্নেছাকে পাঁচ লাখ ও স্ত্রী উম্মে সালমাকে ১৫ লাখ এবং সালাউদ্দিনের স্ত্রী রেমকিমকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। এছাড়া আনসারুলের স্ত্রী নুরুন্নাহারকে ৫০ হাজার নগদসহ সাড়ে সাত লাখ ও মা রাবেয়া আক্তারকে ৫০ হাজার নগদসহ সাড়ে ৭ লাখ এবং জহিরুলের মা জোবায়দা খাতুনকে নগদ অর্থসহ ১৫ লাখ টাকার অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি মধুমতি ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকার অনুদান দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জাভেদা পাটোয়ারী, সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরির্দশক শেখ হেমায়েত হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ফাতেমা বেগম, ডিআইজি (মিডিয়া) একেএম শহীদুর রহমান, নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ও মধুমতি ব্যাংকের পরিচালক সাইফুল আজম উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/ এ এন