নাসিরনগরে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলন করতে এসে নানা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শত শত নারী ও পুরুষ। প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যাংকের বাইরে মাটিতে বসে অপেক্ষা করতে হয় তাদের। উপজেলার অধিকাংশ ব্যাংকের সামনে এই চিত্র বিরাজ করলেও বয়োবৃদ্ধ এসব নারী-পুরুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখার যেন কেউ নেই ।
সমাজ সেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে প্রায় ৭ হাজার ৮৩ জন নারী-পুরুষকে বয়স্ক ভাতা, ২ হাজার ৫১৩ জনকে বিধবা ভাতা ও ১ হাজার ৩৩৬ জনকে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা প্রদান করা হয়। প্রতি তিন মাস অন্তর বয়স্ক ভাতার টাকা প্রদান করা হয়। উপজেলার দুইটি কৃষি ব্যাংক ও চারটি সোনালী ব্যাংকের শাখা থেকে এই টাকা উত্তোলন করেন ভাতাপ্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষরা। উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে এসে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সামনে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে মাটিতে বসে টাকার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় তাদের। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব অসহায় ও বয়স্ক লোকদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহার করে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, ভাতা উত্তোলন করতে এলে ব্যাংকের সামনে অনেক সময় সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় । সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে কিছু জানতে চাইলে দুর্ব্যবহার করে থাকে। এর প্রতিবাদ করলেই ভাতার টাকা কেটে দেয়া হবে বলে তারা হুমকি দেন। উপজেলা সদরের কৃষি ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট এলাকার ভাতা উত্তোলনকারী গ্রাহকদের নির্ধারিত তারিখ ও সময় জানিয়ে দেয়। কিন্তু নির্দিষ্ট এলাকার বাইরেও এদিন অন্যান্য এলাকার গ্রাহকরা এসে ভিড় করায় বিপুল সংখ্যক বয়স্ক নারী-পুরুষের টাকা বিতরণ করতে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটু হিমশিম খেতে হয়।
ইত্তেফাক/ এ এন