যশোরে হিযবুত তাহরীরের ৩ সদস্যের আত্মসমর্পণ

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক দক্ষিণবঙ্গে বিস্তৃত থাকলেও এতোদিন এ জঙ্গিরা ছিল অধরা। মাত্র ১১ মাস আগে যশোরের পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিং করে হিযবুত তাহরীরের আঞ্চলিক নেতা তানজীব আহম্মেদ ওরফে আশরাফুলকে আটকের সময় হিজবুতের আরেক নেতা শহরতলীর ধর্মতলা ছুটিপুর রোডের আব্দুস সালামের ছেলে রায়হানের কথা জানিয়েছিলেন।
 
সেই রায়হানসহ ৫ জনকে ধরিয়ে দিতে পুলিশ অফিস থেকে পোস্টারও ছাপা হয়। এদেরই একজন জঙ্গি রায়হান ও অপর দুইজন বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর পুলিশ লাইন্সে যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এই তিনজনের আত্মসমর্পণের বিষয়টি প্রেস ব্রিফিং-এ নিশ্চিত করেছেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মনির-উজ-জামান।
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং-এ ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলে সহায়তা করা হবে মর্মে পুলিশের আইজির ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এই তিনজন বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় যশোর পুলিশ লাইন্সে যশোরের এসপির অফিসে আত্মসমর্পণ করেছেন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইলে তাদের আইনগত সহায়তা দেয়া হবে।’
 
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে হিযবুত তাহরীরের ‘মোশরেক’ পদবির (ক্যাডার সদস্যের দাবিদার) একজন এবং প্রাথমিক সদস্যের ‘শাবাব’ পদবির দুজন রয়েছেন। মোশরেক সদস্য মো. সাদ্দাম ইয়াসির ওরফে সজল (৩২) শহরের খোলাডাঙ্গা কদমতলার মৃত শফিয়ার রহমানের ছেলে। শাবাব সদস্যদের মধ্যে একজন শহরতলীর ধর্মতলা ছুটিপুর রোডের আব্দুস সালামের ছেলে রায়হান আহম্মেদ (২০)। তিনি যশোর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করার পর যশোর পলিটেকনিক কলেজ থেকে ডিপ্লোমা নেন। অপর শাবাব সদস্য শহরের খোলাডাঙ্গা কদমতলার মো. মেহেদী হাসান পাশা (২০)। তার বাবা যশোর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সুপারিনটেনডেন্ট একেএম শরাফত মিয়া। তিনজনের মধ্যে মধ্যে রায়হান আহম্মেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় চার্জশিট দেয়া আছে বলে জানান এসপি আনিসুর রহমান। তাকে ধরিয়ে দিতে গত মাসে পুলিশ পোস্টারও ছাপায়।
 
এসপি জানান, হিজবুত তাহরীরের মূল প্রশিক্ষক ঢাকার তানজীব। তার কাছ থেকেই আত্মসমর্পণকারীরা প্রশিক্ষণ পেয়েছে। তারা হিযবুত তাহরীরের বেশকিছু বইপুস্তক ও লিফলেট জমা দিয়েছে।
 
ইত্তেফাক/ইউবি