স্বকীয়তা বিকিয়ে বিদেশি সাহায্য নয় :মতিয়া

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, বিভিন্ন প্রকল্পে সরকার বিদেশি সহায়তা নিতে চায়। কিন্তু স্বকীয়তা বিকিয়ে দিয়ে আমরা কোনো সহায়তা নিতে চাই না। তিনি বলেন, সরকার বলেনি যে বিদেশি সাহায্য নেবে না। কিন্তু দাতাদের যে শর্ত আমাদের স্বকীয়তা নষ্ট করে, সে সহযোগিতা আমরা নিতে চাই না। এটি আমাদের অহঙ্কার নয়, শক্তি।
 
একই অনুষ্ঠানে বিদেশি সাহায্যের বিষয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বিদেশিদের কাছে শুধু অর্থ চাইলেই হবে না। সে অর্থ দিয়ে কি করা হবে তার জন্য আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা পরামর্শক ছাড়া কিছুই করতে অভ্যস্ত নই। বিদেশি সাহায্যের দরকার হলেই আমরা পরামর্শক খুঁজি। ছোট-খাটো অনেক প্রকল্পেও পরামর্শক, গাড়ি এবং অন্যান্য খাতে সিংহভাগ অর্থ চলে যায়। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা স্বাধীন জাতি। অনেক ক্ষেত্রে আমরা স্বনির্ভর হয়েছি। চিন্তা-চেতনায় আমরা আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী হতে চাই।
 
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে মন্ত্রীদ্বয় এসব কথা বলেন। ‘জলবায়ু পরিবর্তনে অভিঘাত মোকাবিলায় কৃষিক্ষেত্রে অভিযোজন প্রকল্প:অর্জন এবং করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় পরিচালিত জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড।
 
সেমিনারের প্রধান অতিথি কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, বন্যায় আমাদের ক্ষয়ক্ষতি হয় এটি সত্য। কিন্তু বন্যায় কৃষিজমিতে ব্যাপক পলি এসে জমে। এতে আমাদের উপকারও হয়। এবারের বন্যায় কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে আনতে সরকার তাদের মাঝে ধানের চারা বিতরণ কর্মসূচি নিয়েছে। তিনি বলেন, ফসলের চাষে কীটনাশক ব্যবহার কমিয়ে আনতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। গত বছরের চাইতে এবার ১৮৩ কোটি টাকার কীটনাশক আমদানি কম হয়েছে। ভিটি বেগুনের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে এ বেগুনের সমালোচনা করছে, কিন্তু আমি এই বেগুনের পক্ষে। যে কোনো আবিষ্কারের ভালো দিক আমাদের নিতে হবে। অন্য বেগুনের অর্ধেক পোকায় খেলেও ভিটি বেগুনের উত্পাদন বেশি।
 
মন্ত্রী আরো বলেন, বন্যার কথা মাথায় রেখে দেশে ভাসমান সবজি চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে অন্যান্য ফসলের চাষও বাড়ছে। ভাসমান চাষ পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করার জন্য গবেষণাও চলছে। শ্রম, প্রাণ, মেধা ও শক্তি এ চারটি বিষয়ের সমন্বয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
 
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশের কৃষি সারাবিশ্বে স্বীকৃত। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কৃষির সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পেরে গর্বিত। তবে কৃষির যে সফলতা তার বিচারে ট্রাস্ট ফান্ডের অবদান ‘সিন্দুর মধ্যে বিন্দুর’ মতো। তিনি বলেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সৃষ্টি হয়েছিল বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে ট্রাস্ট ফান্ড একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী তার এ কর্মসূচির কারণে দেশে-বিদেশে নন্দিত। মন্ত্রী বলেন, পরিবেশের সমস্যা সব দেশেরই সমস্যা। আমাদের একার অর্থ দিয়ে এ সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। আর সমস্যাটি মোকাবিলা করা শুধু যে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একার দায়িত্ব সেটিও ঠিক নয়। সবকিছু ট্রাস্ট ফান্ডের টাকায় করতে হবে-এমন ধারণা থেকেও আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
 
মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা প্রকল্প তৈরি করতে অভ্যস্ত নই। সামপ্রতিকালে আমরা কিছু প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। আমরা যতটুকু অর্জন করেছি প্রকল্প বেশি থাকলে আরো বেশি অর্জন করতে পারতাম। আর প্রকল্প থাকলে সরকারের এমনকি দাতাদেরও সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়। আমরা অর্থ চাইবো, কিন্তু সে অর্থ দিয়ে কি করবো তারও বর্ণনা থাকতে হবে। কৃষিমন্ত্রীর প্রশংসা করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, দেশে কৃষি বিপ্লবের পেছনে  কৃষিমন্ত্রীর ভূমিকা রয়েছে। এজন্য শুধু সরকার নয়, কৃষিমন্ত্রীর প্রশংসা দেশে-বিদেশে সবাই করেন।
 
অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এজন্য কৃষি উত্পাদন দিন দিন বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করে কৃষি উত্পাদন বাড়াতে সরকার আরো নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
 
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মইনউদ্দিন আবদুল্লাহ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ এবং অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ বক্তব্য রাখেন।
 

ইত্তেফাক/এ এন