প্রায় তিন মাস পর ঢাকায় ফিরেছেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত দেউরিম ওজতুর্ক। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের পর দেউরিম ওজতুর্ককে আলোচনার জন্য দেশে ডেকে পাঠায় তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এমন অবস্থায় সরকার আলোচনার জন্য আঙ্কারায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আল্লামা সিদ্দিকীকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনে। গত সপ্তাহে আঙ্কারায় ফিরে গেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। আর শুক্রবার ঢাকায় ফিরলেন দেউরিম ওজতুর্ক।
অন্যদিকে, গত মাসে তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর ঢাকা ছেড়ে গেছেন তুরস্কের তিন কূটনীতিক। তুর্কি সরকার তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করে এবং তাদেরকে দেশে ফিরে যেতে নির্দেশ দিয়েছিলো। কিন্তু সেই নির্দেশ না মেনে গত মাসের শেষদিকে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আহমেদ গুরবুজ ও আরেক জন কূটনীতিক নিউইয়র্কে এবং একজন মস্কোতে চলে যান। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলুকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত মাসে ব্যর্থ অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে সারা বিশ্বে দুই জন রাষ্ট্রদূতসহ তুরস্কের প্রায় তিনশো কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদেরকে তুরস্কে ফিরে যেতে বললেও এখন পর্যন্ত ৩২ জন কূটনীতিক তুরস্কে না ফিরে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে গেছেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন কূটনীতিকও রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত মে মাসে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের পর বাংলাদেশ থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে আলোচনার জন্য নিয়ে যায় তুরস্ক। নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর দিন তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজামীর ফাঁসি দেয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিও প্রকাশ করে। নিজামীর ফাঁসির নিন্দা জানালেও বিবৃতিতে বলা হয়েছিলো, তুরস্ক অব্যাহতভাবে বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের পাশে থাকবে।