গার্মেন্টস কারখানার অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, ভবনের কাঠামো ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা সংস্কার কাজে গত কয়েক মাসে গতি বেড়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপভিত্তিক ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত পরিদর্শন জোট অ্যাকর্ড। সম্প্রতি অ্যাকার্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, এখন পর্যন্ত অ্যাকর্ডভূক্ত কারখানাগুলো ৬৪ শতাংশ ত্রুটি সংস্কার করেছে। অগ্নি ও বৈদ্যুতিক সংস্কারে গতি বাড়লেও কাঠামোগত সংস্কার কাজ বেশ খানিকটা পিছিয়ে রয়েছে। তৈরি পোশাক কারখানা ভবনের কাঠামোগত ত্রুতির মাত্র ৪০ শতাংশ সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ১৫টি পোশাক কারখানা শতভাগ সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছে।
২২০টি ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠান অ্যাকর্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে। এসব ব্র্যান্ডের অর্ডার সরবরাহ করে এমন দেড় হাজারের বেশি কারখানার অগ্নি, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ও ভবনের কাঠামোগত সংস্কার কাজ তদারক করছে অ্যাকর্ড। প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে চলমান সংস্কার কাজ আগামী দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
অ্যাকর্ডের শতাধিক প্রকৌশলী রয়েছেন, যারা মাসে চারশ’র বেশি কারখানা ফলোআপ পরিদর্শন কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিটি কারখানা প্রতি তিন মাসের পুণ পরিদর্শন করা হচ্ছে। শুরুর দিকে পরিদর্শনের আওতায় আসা কারখানাগুলো প্রতি চার মাসে অন্তত একবার পরিদর্শন করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত সবগুলো কারখানার সংস্কার অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চিহ্নিত হওয়া ত্রুটির ৬৪ শতাংশ এখন পর্যন্ত সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বৈদ্যুতিক ত্রুটি সংস্কার হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। অগ্নি নিরাপত্তা ত্রুটি সংস্কার ৬০ শতাংশ। ত্রুটি সংস্কারে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ভবনের কাঠামো সংস্কার। মাত্র ৪০ শতাংশ ত্রুটি সংস্কার হয়েছে।
যথা সময়ে ত্রুটি সংস্কারে ব্যর্থতা ও অ্যাকর্ডের কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারনে ৩৪টি কারখানার সঙ্গে সব ধরণের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে।
সংস্কারের পাশাপাশি অ্যাকর্ড কারখানায় শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা কমিটি গঠন সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এর বাইরে কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে ভূমিকা নেয়ার চেষ্টা করলেও এ নিয়ে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র বিরোধিতায় কিছুটা পিছিয়ে এসেছে। তবে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও কারখানায় নিরাপত্তা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে। অ্যকার্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে, এমন ৪০টি কারখানায় পরীক্ষামূলক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২ শতাধিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী সম্পন্ন করা হয়েছে।
২০১৩ সালের ২৪ জুন রানা প্লাজা ধসে ১১ শতাধিক শ্রমিক নিহত হওয়ার জেরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানার নিরাপত্তামান পরীক্ষার দাবি উঠে বিশ্বব্যাপী। অ্যাকর্ডের পাশাপাশি আমেরিকাভিত্তিক ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স এবং বাংলাদেশ সরকার ও আইএলও’র (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা) উদ্যোগেও কারখানা সংস্কার কাজ তদারক করা হচ্ছে। রপ্তানির সঙ্গে জড়িত রয়েছে, সব মিলিয়ে এরকম মোট ৩ হাজার ৭শ’ কারখানা পরীক্ষা শেষে সংস্কার কাজ তদারক করা হচ্ছে। এর বাইরে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র সদস্য নয়, এমন আরো আরো প্রায় ১১শ’ কারখানা পরীক্ষার কথাও ভাবছে শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)।
ইত্তেফাক/এএম।