গেমস ভিলেজে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব মেজবাহ আহমেদ ও দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার। বাংলাদেশি সংবাদিকদের ডাকে তাদের আসতে হয়। বাইরে এসে দেখলেন বিভিন্ন দেশের স্বর্ণজয়ী ক্রীড়াবিদদের সাক্ষাত্কার নিচ্ছে স্বদেশী সংবাদ মাধ্যমগুলো। পোল্যান্ডের দুই জন নারী ক্রীড়াবিদ রোইংয়ের স্বর্ণ গলায় ঝুলিয়ে কথা বলছেন টিভিতে, জার্মান শ্যুটার স্বর্ণ পদক পেয়ে সবার সাথে ছবি তুলছেন, গলা মেলাচ্ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকান আরেক ক্রীড়াবিদ রৌপ্য পদক গলায় ঝুলিয়ে ফটোসেশন করছেন। ওরা যখন পদকে চুমু খাচ্ছেন, পদক হাতে ক্যামেরার সামনে কথা বলছেন তখন বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা ট্র্যাকস্যুটের পকেটে হাত ঢুকিয়ে মলিন বদনে বলেন,‘ওরা যে স্বর্ণ পদক জয় করে সবাইকে দেখাচ্ছে সেটা ওদেরই সাজে। ওদের জিজ্ঞাসা করে দেখেন কতো দিন, কতো বছর অনুশীলন করে আজকে স্বর্ণ জয় করলো। আমরা মাত্র তিন দিন অনুশীলন করে এসেছি।’
সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর নিজের টাইমিংয়ের চেয়ে ভালো করেছেন। এ বিষয়ে কথা উঠলে মেজবাহ এবং শিরিন একসাথে বলে ওঠেন, ‘সাগর তো এক বছর থাইল্যান্ডে অনুশীলন করেছে। আধুনিক সুযোগ সুবিধা পেয়েছে। আমরা কি পেয়েছিলাম। ওরকম অনুশীলন করার সুযোগ পেলে আমরাও ভালো করতে পারতাম।’ মেজবাহ বললেন, ‘আমরা চার মাস ট্রেনিং করলে রেকর্ড করতে পারতাম।’
ঝিনাইদহের মেয়ে সোনিয়া আক্তার টুম্পা ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ৮৮ জনের মধ্যে ৬৯ হয়েছে হিটে বাদ পড়েছেন। বাদ পড়েছেন মাহফিজুর রহমান সাগরও। কিন্তু এটা অন্যান্য গেমসের তুলনায় ভালো ফলই ধরে নেয়া হয়। সোনিয়া, সাগর খেলতে এসেছেন কোচ ছাড়াই। কোচের বদলে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাফিজ উদ্দিন ব্রাজিলে অলিম্পিক গেমস উপভোগ করেছেন। সোনিয়ার ভালো টাইমিংয়ের কারণ দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ পার্ক তে গুন। বাংলাদেশের সাঁতারের জন্য তিনি খুব ভালো বন্ধু। নিজের চেয়েও দেশের সাঁতারুদের ভালো করার চেষ্টা আছে। তার হাতে পড়ে বাংলাদেশের সাঁতারু মাহফুজা আক্তার শিলা এসএ গেমসে দুটি স্বর্ণ পদক জয় করেছেন। অলিম্পিক গেমসে এসে সোনিয়া আক্তার টুম্পাও কোরিয়ান কোচের প্রশংসাই করলেন।
দেশের দ্রুততম মানবীর ভাগ্যটা হয়তো খারাপ। অ্যাথলেটিকসে এসে হিটে লড়বেন বলে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু ট্র্যাকে নেমে জানতে পারলেন হিটের আগে আরো একটি ‘হিট’ হবে। কারণ অতিরিক্ত প্রতিযোগী হয়ে গেছে। তাই প্রি-হিটের মাধ্যমে প্রতিযোগী কমাতে হবে। সেখানেই থেমে গেলেন শিরিন। ২৪ জনের মধ্যে ১৭তম স্থান পেয়েছেন তিনি। দেশে অনুশীলনের উন্নত সুযোগ সুবিধা নেই। সোনিয়া শিরিনদের লড়াই শেষ। অলিম্পিকের মশাল নেভার আগ পর্যন্ত গেমস ভিলেজে থাকবেন। এই সময়টায় আধুনিক সুবিধাগুলো ভোগ করে অনুশীলন করার সুযোগ নিতে চান তারা।
শিরিন আক্তার, মেজবাহ আহমেদ এবং সোনিয়া এই ক্রীড়াবিদের এটাই প্রথম অলিম্পিক। বাস্তবতা হচ্ছে সব দিক থেকেই তারা পিছিয়ে। ফিটনেস নেই। অন্যান্য অ্যাথলেটদের সামনে দিয়ে যখন তারা হেঁটে যান তখন খালি চোখেই শারিরীক সক্ষমতার ব্যবধানটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।