বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম টোল প্লাজা থেকে জব্দকৃত প্রায় দেড় কোটি টাকার মালিক কে? ওই অর্থের উৎস কি? অপরাধমূলক কোন কর্মকাণ্ডে এটি ব্যবহারের জন্য স্থানান্তর হচ্ছিল কিনা সেটি এখনো বের করা সম্ভব হয়নি। এজন্য অধিকতর তদন্তের আবেদন জানিয়েছিল পুলিশ।
ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অনুমতি দিয়েছিলো ঘটনার আসল তথ্য বের করতে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ বাতিল করে এক সপ্তাহের মধ্যে দাবিদারগণকে অর্থ ফেরতদানের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জব্দকৃত ওই কোটি টাকা ও গাড়ি ফেরত প্রদানের হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করে দিয়েছে।
বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ রবিবার এই আদেশ দেন। আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে জব্দকৃত এই টাকা ও গাড়ির মালিক কে এবং এই অর্থ কোন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য স্থানান্তর করা হচ্ছিল কিনা তা অধিকতর তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোন্দকার দিলিরুজ্জামান। তিনি বলেন, আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করে দিয়েছে। ফলে অধিকতর তদন্ত চলবে।
২০১৫ সালের ১৭ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম টোল প্লাজা থেকে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকার থেকে এক কোটি ৩৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি ওই গাড়ির চালক বাবু ওরফে যুবরাজ ও আব্দুর রাজ্জাক নামে দুই ব্যক্তিকে থানায় করা জিডির ভিত্তিতে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে। পরে টাকা ও গাড়ির জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে সিরাজগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গ্রেফতারকৃতদের হাজির করে। আদালত ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়ে দুই ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠায়। গত ৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার এসআই মো. আহসান হাবিব ঘটনা তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, জমি রেজিস্ট্রির উদ্দেশে সিরাজগঞ্জ হতে এই টাকা ঢাকায় নেয়া হচ্ছিল। অর্থের অবৈধ উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীকালে ১৭ অক্টোবর এই পুলিশ কর্মকর্তা সম্পূরক তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে একই বক্তব্য তুলে ধরেন। তবে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই প্রতিবেদন গ্রহণ না করে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আকরামুল হোসেনকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে আকরামুল হোসেন বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্থের দাবিদারগনের ইনকাম ট্যাক্স ফাইলের আইটি ১০বি ফর্মে প্রদর্শিত ওয়েলথে দুটি দিক নির্দেশনার কোনটিই সমর্থন করে না। আলোচ্য টাকাগুলোর মধ্যে ৬০ লক্ষ টাকার কোন বৈধ উৎস প্রদর্শন করতে না পারায় এবং অন্যান্য টাকাগুলো অস্বাভাবিকভাবে স্থানান্তর ও সন্দেহমূলক ব্যাংক ট্রানজেকশনের কারণে টাকার মালিকানা দাবিদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। অতএব এই অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে এবং অর্ধেক পরিমাণ টাকার উৎসর বৈধতা না পাওয়ায় টাকাগুলো দাবিদারগণ অপরাধমূলক উৎস হতে সংগ্রহ করে কোন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য অস্বাভাবিক স্থানান্তর করেছিলো কিনা তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। অতএব জিডির বিষয়ে জড়িত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সুনির্দিষ্ট তথ্যের জন্য আরো অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন।
গত ৪ মে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিষয়টি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা করেন বাবু ওরফে যুবরাজসহ ছয়জন। গত ১২ এপ্রিল হাইকোর্টের একক বেঞ্চ কোন রুল জারি না করে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ বাতিল করে দেয়। একইসঙ্গে এক সপ্তাহের মধ্যে জব্দকৃত টাকা ও গাড়ি দাবিদারগণের কাছে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ ওই লিভ টু আপিলের ওপর রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোন্দকার মো. দিলিরুজ্জামান শুনানি করেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করে দেয়।