সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের কুমির জুলিয়েট ও পিলপিলের ডিম ফুটে ৪৭টি ছানার (বাচ্চা) জন্ম হয়েছে। এদের বাবা কুমিরের নাম রোমিও। রবিবার সকালে ডিম ফুটে বাচ্চাগুলো বেরিয়ে আসে।
৮৪ দিন আগে নোনা পানির কুমির জুলিয়েট ও পিলপিল মোট ৯৮টি ডিম দেয়। এর মধ্যে জুলিয়েট ৫০টি এবং পিলপিল দেয় ৪৮টি ডিম। ডিমগুলো কেন্দ্রের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে সঠিক তাপ ও আর্দ্রতায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং আলোতে রাখা হয়।
৮৪ দিন অপেক্ষার পর রবিবার সকাল থেকে এসব ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে শুরু করে। তবে ভ্রূণ অনিষিক্ত এবং মৃত ভ্রূণের কারণে ৫১টি ডিম নষ্ট হয়ে গেছে। জন্ম নেয়া ৪৭টি কুমির ছানার মধ্যে পিলপিলের ডিম থেকে ২৭টি এবং জুলিয়েটের ডিম থেকে ২০টি বাচ্চা হয়েছে। বাচ্চাগুলোর ৮০ শতাংশ নারী এবং ২০ শতাংশ পুরুষ।
IMG0
প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কুমির বিশেষজ্ঞ আব্দুল মান্নান জানান, কুমির ছানাগুলোকে ৩৬ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর নির্ধারিত জলাশয়ে ছেড়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, জুলিয়েট ও পিলপিলের ডিম থেকে গত ১০ বছরে ৪০৩টি বাচ্চা ফুটেছে। এর মধ্যে ১০১টি ছানা বঙ্গবন্ধু, ডুলাহাজরা সাফারি পার্কসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে অবমুক্ত করা হয়েছে। আর ৩০২টি ছানা করমজলে রয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে বিলুপ্তপ্রায় লবণ পানির প্রজাতির কুমিরের প্রজনন বৃদ্ধি ও লালন-পালনের জন্য ২০০২ সালে ‘সুন্দরবন বায়োডাইভারার্সিটি কনজারভেশন’ প্রকল্পের আওতায় পূর্ব সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রে গড়ে তোলা হয় এ কুমির প্রজনন কেন্দ্র। সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীতে জেলেদের জালে আটকা পড়া ছোট-বড় পাঁচটি কুমির নিয়ে কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয় বলে জানান তিনি।
প্রজনন কেন্দ্রের কুমির রক্ষণাবেক্ষণকারী কর্মচারী মো. জাকির হোসেন জানান, রোমিও-জুলিয়েট এবং পিলপিলের বয়স এখন ২৮। ২০০৫ সালে এসব কুমির প্রজননক্ষম হয়। এছাড়া এই কেন্দ্রে ভারত থেকে আনা মিঠা পানির প্রজাতির (মার্শ ক্রোকোডাইল) দু’টি মেয়ে কুমিরও রয়েছে। এদের প্রতিটির বয়স ২০ বছর।