মহাদেবপুরে ইজারা নেওয়া পুকুর থেকে মাছ লুটের অভিযোগ

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আলতাদীঘি গ্রামে ইজারা নেওয়া পুকুর দখল করে মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে এক সংসদ সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (্ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ইজারাদার সহ-অংশীদার আব্দুস সামাদের পক্ষে তার ভাগনে মোজাফফর হোসেন। এ ঘটনায় ইউএনও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করে।
 
এ দিকে গতকাল রবিবার দুপুর পর্যন্ত প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন স্থানে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ইজাদার আব্দুস সামাদ। তবে সংসদ সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের আলতাদীঘি গ্রামে ১৩ দশমিক ৫৩ একর (প্রায় ৪১ বিঘা) আয়তনের একটি পুকুর গত জুন মাসে সহ-অংশীদার হিসাবে আব্দুস সামাদ, আতোয়ার হোসেন ও আব্বাস আলীর নামে ইজারা দেওয়া হয়। গত চার মাস ধরে ওই পুকুরে তারা মাছ চাষ করে আসছিলেন। এ অবস্থায় আব্দুস সামাদের সাথে মাছ চাষ নিয়ে অপর দুই জন আতোয়ার হোসেন ও আব্বাস আলীর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
 
এক পর্যায় গত শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সংসদ সদস্যের ছেলে ও ভাগিনার নেতৃত্বে আতোয়ার হোসেন ও আব্বাস আলীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রায় ২০০ জন পুকুর দখল করে গ্রামবাসীকে জিম্মি করে মাছ মারতে শুরু করে। এ সময় পুকুর পাহারা দেওয়ার জন্য শ্রমিকদের থাকার ঘর ভাঙচুর করে এবং মাছের খাদ্যের গোডাউনে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
 
আব্দুস সামাদ বলেন, চলতি বছরের শুরুতে পুকুরে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছের পোনা ছাড়া হয়েছিল। চার মাসে সেগুলোর আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা হয়েছিল। শনিবার ওই সংসদ সদস্যের পুত্র ও ভাগিনার নেতৃত্বে আতোয়ার হোসেন ও আব্বাস আলীর প্রায় ২০০ সন্ত্রাসী সব মাছ লুট করে নিয়ে যায়
 
সংসদ সদস্যের ছেলের এ ব্যাপারে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানান। তিনি আরো বলেন, তিনজন অংশীদারের মধ্যে পুকুরটি নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। আব্দুস সামাদ অপর দুই জনকে বঞ্চিত করে আসছিলেন। ওই বঞ্চিত লোকজনই পুকুর দখল ও মাছ ধরে নিয়ে যান।
 
মহাদেবপুর থানার ওসি সাবের রেজা চৌধুরী বলেন, জমি-জমা সংক্রান্ত ব্যাপারে তাত্ক্ষণিক প্রশাসনের কাছে করা অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি না। তবে ইউএনও কোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠালে এবং তখন পুলিশের সহযোগিতা চাইলে পুলিশ সেখানে যেত।
 
মহাদেবপুর ইউএনও জেবুননাহার জানান, সরকারি আইন মোতাবেক সহ-অংশীদার হিসাবে আব্দুস সামাদ, আতোয়ার হোসেন ও আব্বাস আলীকে ইজারা দেয়া হয়েছে। এরপর থেকে ওই তিনজনই মাছ চাষ করে আসছিলেন। হঠাত্ করে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। আর এই দ্বন্দ্বের কারণেই আব্দুস সামাদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে এই মাছ লুট করা হয়েছে এমন সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানার ওসিকে তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
 
পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বিপিএম, পিপিএম জানান, মাছ লুট করা ও শ্রমিকদের থাকার ঘর ও মাছের খাদ্য গোডাউনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
জেলা প্রশাসক আমিনুর রহমান জানান, এই ঘটনায় অন্যায়কারী যেই হোক না কেন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
 

ইত্তেফাক / এ এন