সদ্যোজাত শিশু চুরির ১৯ বছর পর কারাদণ্ড

দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৯ বছর আগে হাসপাতাল থেকে সদ্যোজাত শিশু চুরির অপরাধে এক নারীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ৫১ বছর বয়সী ওই নারী চুরি করা কন্যা শিশুটিকে নিজের সন্তান পরিচয়ে বড় করে তোলেন। ২০১৫ সালে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
 
স্কুলের অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে জেফানি নার্সের আশ্চর্যজনক মিল দেখা যাওয়ার পর সৃষ্টি হয় সমস্যা । পুলিশ মেয়ে দুইটির ডিএনএ পরীক্ষা করে। পরীক্ষায় তারা দুই বোন বলে প্রমাণ হয়। মামলার রায়ে বিচারক জন লোফি ওই নারীকে দোষী সাব্যস্ত করে বলেন, আপনি যা করেছেন সেটি জেফানির সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’। শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার জন্য আপনি অনেক সময় পেয়েছিলেন। কিন্তু আপনি ফেরত না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
 
জেফানির জন্মদাতা বাবা-মা প্রতি বছর তাদের হারিয়ে যাওয়া মেয়ের জন্মদিন উদযাপন করতেন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে সে খবর প্রকাশ পেত। বিচারক বলেন, এর অর্থ জেফানির বাবা-মা সবসময় তাদের মেয়ের অপেক্ষা করেছেন এবং যেহেতু গণমাধ্যমে সে খবর প্রকাশ পেত, তাই আসামির তা না জানতে পারার কোনো কারণ ছিল না।
 
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে এর আগে বলা হয়েছিল, জেফানি তার প্রকৃত বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে আগ্রহী নয় এবং যে নারী তাকে অপহরণ করেছে তাকেই সে নিজের মা মনে করে।
 
রায় ঘোষণার পর জেফানির বায়োলজিক্যাল দাদি ম্যারিলিন আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, কারাদণ্ডের মেয়াদ নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তবে আশা করি জেফানির প্রকৃত বাবা-মা এখন নিজেদের মেয়ের সঙ্গে বন্ধন বাড়াতে এবং সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হবে। জেফানির পরিচয় গোপন রাখতে দণ্ডপ্রাপ্ত ওই নারীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। রয়টার্স। 
 
ইত্তেফাক/এসএসএ