বিনম্র ও গভীর শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ, প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়ন এবং শোককে শক্তিতে পরিণত করে যে কোন মূল্যে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ রুখে দিয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গিকারের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় গতকাল সোমবার পালিত হলো স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাত্ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস।
শোকাবহ ১৫ আগস্টে বাঙালি জাতি চোখের জল আর হূদয়ের ভালবাসায় স্মরণ করেছে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সকল শহীদদের। জাতির পিতা হারানোর বেদনায় বাঙালি জাতি দিনভর কেঁদেছে। শোকাচ্ছন্ন নীরবতায় যেন থমকে গিয়েছিল গোটা দেশ। ৪১ বছর হয়ে গেল, এখনও মৃত্যুঞ্জয়ী মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে ভোলেনি কৃতজ্ঞ বাঙালি। বরং নতুন করেই নতুন শপথে বলীয়ান হয়ে বাঙালি জাতি গতকাল ৪১ বছর আগের ভয়াল এক রাতের শোকাবহ স্মৃতি স্মরণ করেছে। যিনি জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ, লাখো শহীদের রক্তস্নাত লাল-সবুজের পতাকা। শুনিয়েছিলেন সেই অমর বাণী- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ দেশজুড়ে দিনব্যাপী জাতীয় শোক দিবসের প্রতিটি কর্মসূচিতেই বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সমূলে উপড়ে ফেলে জঙ্গি হামলা ও গুপ্তহত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলায় জঙ্গিদের কোন ঠাঁই নেই।
সকাল সাড়ে ৬টায় দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মোঃ আবুদল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। পরে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তারা মোনাজাত করেন। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী পৃথক দুটি ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদনের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে এই মহান নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা, বঙ্গবন্ধু নাতনী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নেত্রী সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনী প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির ভেতরে যান। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালরাতে যে সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর মরদেহ পড়েছিল, সেখানে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন তিনি। পরে ওই ভবনের একটি কক্ষে বসে কিছু সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময়ে শেখ রেহানা ও সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল উপস্থিত ছিলেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর বঙ্গবন্ধু জাদুঘর থেকে বোন শেখ রেহানা ও মেয়ে পুতুলকে সঙ্গে নিয়ে বনানী কবরস্থানে যান শেখ হাসিনা। সেখানে মা, ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ১৫ আগস্ট শহীদদের প্রতিটি কবরে গোলাপের পাপড়ি ছিটান শেখ হাসিনা। পরে প্রধানমন্ত্রী ও শেখ রেহানাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা হেলিকপ্টরযোগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় যান। সেখানে জাতির পিতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এছাড়া টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দেওয়ার পর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন তারা। পরে সেখানে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। মোনাজাতে দেশ-জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উন্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। এখানেও তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল বঙ্গবন্ধুর প্রতি গার্ড অব অনার প্রদান করে। বাদ আছর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সব হারানোর বেদনার্ত অশ্রু সবাইকে আবেগতাড়িত করে।
বঙ্গবন্ধুর মাজার, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও বনানীতে ১৫ আগস্টে শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে আসা শোকার্ত মানুষের স্রোত অতীতের সকল রেকর্ডকে যেন এবার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু ব্যক্তি নামে সীমাবদ্ধ নয়, তিনি একটি আদর্শ। তাঁর আদর্শের আলো ছড়িয়ে পড়েছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মৃত্যুঞ্জয়ী। তাই ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শকে যে হত্যা করা সম্ভব নয় তা আবারও চোখে আঙ্গুল দিয়ে পঁচাত্তরের ঘাতকচক্র ও তাদের দোসরদের জানিয়ে দিল কৃতজ্ঞ জাতি। সারাদেশই যেন শোকের লাখ লাখ কালো ব্যানার, ফেস্টুন আর পোস্টারে ঢেকে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর বাসভবন প্রাঙ্গণ এবং টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারস্থল হয়ে উঠেছিল শোকার্ত লাখো মানুষের মিলন মোহনা। শোকের তোরণ ও পোস্টার, কালো পতাকা, বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠের সেই ভাষণ ও স্মৃতি জাগানিয়া গানে গোটা রাজধানীর পরিবেশটাই পাল্টে গিয়েছিল। দিনভর কৃতজ্ঞ বাঙালির শ্রদ্ধা আর ভালবাসার পুষ্পাঞ্জলিতে ভরে উঠেছিল ধানমন্ডির ৩২ নম্বর জাতির পিতার প্রতিকৃতি, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজার এবং বনানীস্থ ১৫ আগস্টের শহীদদের সমাধিস্থল। অগণিত মানুষের হূদয়ের আবেগ, প্রগাঢ় শ্রদ্ধা আর ১৯৭৫ সালের সেই ভয়ঙ্কর কালরাতের বেদনাবিধূর স্মৃতিচারণ করেছে জাতি। দল ও মত পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে এবার অনেকটা সার্বজনীনভাবে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়। প্রতি বছর বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ঘটা করে কেক কেটে জন্মদিন পালন করলেও এবার তিনি তা করেননি। অন্যান্য বার ১৪ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে নেতা-কর্মীদের নিয়ে জন্মদিনের কেক কাটতেন খালেদা জিয়া।
শুধু আওয়ামী লীগই নয়, সারাদেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষ, সংগঠন এবার বিস্তারিত কর্মসূচির মাধ্যমে স্মরণ করছে মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দিনব্যাপী শহরজুড়ে মাইকে প্রচারিত হয়েছে কোরআন তেলোয়াত এবং এর ফাঁকে ফাঁকে দেশাত্মবোধক ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগানিয়া গান। এছাড়া মাইকে উচ্চারিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর তেজোতীপ্ত বলিষ্ঠ কণ্ঠের সেই আহ্বান:‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক... এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এবার জাতীয় শোক দিবসের দলীয় আয়োজনকে বহুগুণে ছাপিয়ে গিয়েছিল গণমানুষের আয়োজন। শহরের প্রত্যেক পাড়া মহল্লায়, সড়কের পাশ দিয়ে যেতে যেতে চোখে পড়েছে খানিক পরপরই কালো ব্যানার, কালো পতাকা উড়িয়ে চলছে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। বাঙালি জাতি যেন স্বজন হারানোর বেদনায় ব্যথাতুর হয়ে ওঠেন। ৪১ বছর আগের ভয়াল এক রাতের শোকাবহ স্মৃতি স্মরণ করছে বাংলাদেশ। গভীর শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণের পাশাপাশি দেশের সর্বত্র শোকার্ত লাখো মানুষের কণ্ঠে ছিল অভিন্ন স্লোগান ও দাবি- ‘কে বলেছে মুজিব নাই, মুজিব আছে সারা বাংলায়, মুজিবের বাংলায়-রাজাকারের ঠাঁই নাই। একাত্তরের ঘাতকদের দ্রুত বিচার চাই।’ রবিবার রাত থেকেই মাইকে বেজেছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণসহ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণামূলক গান।
গতকাল সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে তোলা হয়। বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল ছিল সরকারি ছুটি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু ভবন ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে তাত্পর্যপূর্ণ কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হামদ্ ও নাত প্রতিযোগিতা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। বাদ জোহর সারাদেশে সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর চলেছে কাঙ্গালি ভোজ। দেশের সকল সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালসহ জেলা, উপজেলা হাসপাতাল এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়।
মা-ভাইয়ের সমাধিপাশে শোকবিহ্বল প্রধানমন্ত্রী
গতকাল ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় বনানীর কবরস্থানের সারি বাঁধা ১৮টি কবর। এসব কবর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নরপিশাচ ঘাতকচক্রের নির্মম বুলেটে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে নিহত বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, শিশুপুত্র রাসেলসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের। ৪১ বছর আগে ঘাতকদের বন্দুকের নলের মুখে স্বজনদের চোখের জলে শেষ বিদায়টুকু দিতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা। গতকাল সোমবার সকালে মা-ভাইদের কবরে গিয়ে চোখের জল থামিয়ে রাখতে পারেননি একসঙ্গে সব স্বজনহারা শোকবিহ্বল শেখ হাসিনা। তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় স্বজনদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে মোনাজাত ও ফাতেহা পাঠ করেন। জাতির পিতার এই কন্যা নিজ হাতে মুঠো মুঠো ভালবাসার ফুল ছড়িয়ে দেন প্রিয় স্বজনদের কবরে। নেতাকর্মী, মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বনানী কবরস্থানে গেলে সেখানে এক অন্যরকম আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই সেখানে চলছিল শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরানখানি ও দোয়া মাহফিল। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে একে একে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুুল হক এবং সাঈদ খোকন ১৫ আগস্টে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী জ্ঞাপন করেন।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সর্বস্তরের শোকার্ত মানুষের ঢল
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বিশিষ্টজনসহ সর্বস্তরের শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। ৬টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সকল সংগঠন এবং নগরীর প্রতিটি শাখা থেকে শোক মিছিলসহ বঙ্গবন্ধু ভবনের সম্মুখে আগমন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করে। সকাল ৬টার মধ্যেই ভরে ওঠে পুরো ৩২ নম্বর সড়ক। লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় পুরো এলাকা। কালো ব্যানার হাতে ও বুকে কালোব্যাজ ধারণ করে নারী-পুরুষ এবং শিশু কিশোরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা জাতির পিতাকে স্মরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পক্ষে অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনিসহ সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। সর্বস্তরের মানুষ সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে বিকাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি জেপি’র শ্রদ্ধা নিবেদন
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পার্টির (জেপি) পক্ষ হতে গৃহীত সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে গতকাল সকালে জাতীয় পার্টির (জেপি) সকল দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। ঢাকা ও টুঙ্গী পাড়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস পালন করে জেপি। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায় জাতীয় পার্টি-জেপি’র পক্ষ হতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়াও জাতীয় পার্টি-জেপি’র পক্ষ হতে বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও পূষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এসময় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য এ.এইচ.সালাহউদ্দিন মাহমুদ, মফিজুল হক বেবু, এজাজ আহমেদ মুক্তা, শেখ মোঃ জয়নাল আবেদীন, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রেনু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, এম.এ কাইয়ুম, খন্দকার শাহীন আল দ্বীন রিজভী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদক এম.সালাহউদ্দিন আহমেদ, সহ সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম তপন, অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, আইন বিষয়ক সম্পাদক রশিদ আহমেদ, যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক জীবন কৃষ্ণ বৈরাগী, যুগ্ম প্রচার সম্পাদক মঞ্জুর হাবিব মঞ্জু, যুগ্ম যুব বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন সুলতান, যুগ্ম পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাদেকুর রহমান সাদেক, যুব সংহতির সহ সভাপতি জেড সেলিম, যুব সংহতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ন.ম. নাজমুল হোসেন ও ঢাকা জেলা নেতা আপেল মাহমুদ প্রমূখ। এছাড়া জাতীয় পার্টির (জেপি) সকল শাখা স্ব স্ব উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালন করে।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন যারা
সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের পক্ষে সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, গণআজাদী লীগের সভাপতি এসকে শিকদার, কমিউনিস্ট কেন্দ্রে অসিত বরণ রায় প্রমুখ। পরে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এছাড়া জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে সংস্থার সাংবাদিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), মহিলা শ্রমিক লীগ, তরুণ লীগ, মত্স্যজীবী লীগ, হকার্স লীগ, তাঁতীলীগ, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, যুব উন্নয়ন অধিদফতর, ঢাকা সিটি করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী লীগ, গণপূর্ত শ্রমিক লীগ, মোটরচালক লীগ, রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগ, ওলামা লীগ, জাতীয় বিদ্যুত্ শ্রমিক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ফিল্ম আর্কাইভ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমী, গণগ্রন্থাগার অধিদফতর, জাতীয় জাদুঘর, নজরুল ইনস্টিটিউট, শিশু একাডেমী, খেলাঘর, বাংলাদেশ বেতার, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট, বেতার কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিনিয়োগ বোর্ড, শিল্প গবেষণা পরিষদ, পলিটেকনিক শিক্ষক পরিষদ, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জাতীয় মহিলা সংস্থা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা কৃষিবিদ পরিষদ, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ, জাতীয় গীতিকবি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আদর্শ মূল্যায়ন ও গবেষণা সংসদ, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম, ফকির আলমগীরের নেতৃত্বে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, শেখ রাসেল শিশু সংসদ, বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকসহ এসব ব্যাংকের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, ছিন্নমূল হকার্স লীগ, রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, ঢাকাস্থ টুঙ্গিপাড়া সমিতি, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, আবদুস সামাদ আজাদ ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু শিল্পীগোষ্ঠী, সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদ, ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু ফেডারেশন, টিঅ্যান্ডটি শ্রমিক ফেডারেল ইউনিয়ন, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্মৃতি পরিষদ, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ, সাধনা সংসদ, আওয়ামী শিশু-কিশোর যুবজোট, নির্মাণ শ্রমিক লীগ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদ, জননেত্রী পরিষদ, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু আইন পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা বিসিএস অফিসার্স কল্যাণ সমিতি, বঙ্গবন্ধু ললিতকলা একাডেমী, সোনার বাংলা যুব পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক-কর্মচারী লীগ, স্থলবন্দর শ্রমিক লীগ, বিসিএস পাবলিক ওয়ার্কার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, টেলিযোগাযোগ শ্রমিক ইউনিয়ন, বিআইডব্লিউটিএ ঘাট শ্রমিক ইউনিয়ন, ঢাকা নৌবন্দর ঘাট শ্রমিক বহুমুখী সমবায় সমিতি, বঙ্গবন্ধু কবিতা পরিষদ, শান্তি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমী, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম, স্বাধীনতা ডিপ্লোমা চিকিত্সক পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, স্বাধীনতা হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, বঙ্গবন্ধু সাহিত্য পরিষদ, বৃহত্তর ফরিদপুর চাকরিজীবী কল্যাণ সমিতি, গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি, নৌকার নতুন প্রজন্ম, আওয়ামী আইন ছাত্র পরিষদ, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন, বৌদ্ধ ছাত্র সংসদ, শহীদ মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ, ডিপ্লোমা নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন, সেন্টার ফর মেডিক্যাল এডুকেশন, সনাতন আইনজীবী কল্যাণ পরিষদ, চিলড্রেন্স ভয়েসসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন।
মুগদা ৫শ’ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পক্ষ থেকে চিকিত্সক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকাল সাড়ে ৭ টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় মুগদা জেনারেল মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. শাহ গোলাম নবী তুহিনের নেতৃত্বে মেডিক্যাল কলেজের স্বাচিপ শাখার সদস্য সচিব ডা. তানভীর আশরাফ, ডা. দোস্ত মোহাম্মদ রুবেল, ডা. আব্দুল হামিদ, ডা. মোতালেব, ডা. সঞ্জয়, ডা. আরিফ, ডা. হারুন-অর-রশিদ পলাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে মুগদা জেনারেল মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে সকাল ১০ টায় রোটার এ্যাক্ট ক্লাবের উদ্যোগে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালিত হয়। দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সানিয়া তাহমিনা জোরা ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. আজিজুন ন্নাহার ও স্বাচিপ শাখার উদ্যোগে রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করা হয়।
বঙ্গভবনে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল বঙ্গভবনে এক মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জোহরের নামাজের পর দরবার হলে অনুষ্ঠিত মিলাদ মাহফিলে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ যোগ দেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মিলাদ মাহফিলে রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্যগণ এবং বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। বঙ্গভবন মসজিদের ইমাম মাওলানা মাসুদুর রহমান মোনাজাত পরিচালনা করেন। এরআগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর প্রযোজিত ‘চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সভায় বক্তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবন কর্মের উল্লেখযোগ্য দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
এদিকে গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সমকাল পত্রিকার সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শফিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী, বিএফইউজের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, যুগান্তর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম প্রমুখ। এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ্য অর্পন করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শফিকুর রহমান। এছাড়া জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়।
শোক দিবস উপলক্ষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যুবদের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পের জন্য যুব ঋণের চেক বিতরণ করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার। অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিম সভাপতিত্বে করেন। নগরীর কাকরাইলস্থ জনপ্রকৌশল অধিদপ্তর মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বক্তব্য রাখেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল। সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে দরিদ্র রোগীদের ২ ঘন্টা বিনামূল্যে চিকিত্সা সেবা দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্ব করেন। এর আগে তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর বসার জন্য নির্মিত চেয়ারটি টিএসসি মিলনায়তনে উদ্বোধন করেন। উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত ‘মানচিত্রে রক্তের ফোয়ারা’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং চারুকলা অনুষদ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।
দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে শোকদিবসের আলোচনা ও দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে যে সাম্প্রদায়িকতা শুরু হয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে জঙ্গিবাদ বিস্তার লাভ করছে। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরির নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধসহ দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
বিকেলে রাজধানীর দারুস সালামে বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (বিকেটিটিসি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাত্বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।’ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব বেগম শামছুন নাহারের সভাপতিতে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিকেটিটিসির অধ্যক্ষ ড. প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত আলী।
চট্টগ্রাম জাতীয় শোকদিবস পালিত
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে গতকাল সোমবার ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামে জাতীয় শোকদিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪১ তম শাহাদাত্ বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির সমূহের মধ্যে ছিলো বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ, আলোচনা সভা, রক্তদান কর্মসূচি, পালিয়ে থাকা ঘাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের মৃত্যুদন্ড কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও কালোব্যাজ ধারণ প্রভৃতি।
চট্টগ্রামে সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কর্মচারি ও শ্রমিকদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন আলোচনা সভার বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরাই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের সৃষ্টি করেছে, যাতে স্বাধীন বাংলাদেশ অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
মহানগরী আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ব্যবস্থাপনায় ও নেতৃত্বে গতকাল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সেখানে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ত্রিশ হাজার মানুষের জন্য মেজবান ও কাঙ্গালীভোজের আয়োজন করেন।
শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় শোকদিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরউদ্দিন বলেন, এই শোকের দিনে আজ সবাইকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের শপথ নিতে হবে। জাতির পিতাকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, জেলাপ্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগরী পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার, ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার শঙ্কর রঞ্জন সাহা, জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো.সাহাব উদ্দিন, মহানগর কমান্ডার মো. মোজাফফর আহমদ প্রমুখ। সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শোক র্যালি বের করা হয়।
খুলনায় জাতীয় শোক দিবস পালিত
খুলনা অফিস জানায়, যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে খুলনায় স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ৪১তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, শোকর্যালি, জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা, রক্তদান, শিক্ষার্থীদের কবিতাপাঠ ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
শোক দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ৯টায় অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।
এর আগে সকাল সাড়ে আটটায় নগরীর নিউমার্কেট চত্বর হতে দিবসটি পালন উপলক্ষে শোকর্যালি বের করা হয়। র্যালিতে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য তালুকদার আবদুল খালেক, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাগণসহ সর্বস্তরের জনগণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। র্যালিটি বাংলাদেশ বেতার খুলনায় গিয়ে শেষ হয়। পরে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজাসহ সকলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
এছাড়া সকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান।
বরিশালে জাতীয় শোক দিবস পালিত
বরিশাল অফিস জানায়, যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যান সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু’র মুর্যালে এবং অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বঙ্গবন্ধু উদ্যান সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু’র মুর্যালে পুষ্পার্ঘ অর্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সদর আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, জেলা পরিষদের প্রশাসক খান আলতাফ হোসেন ভুলু, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ গাউস, অতিরিক্ত ডিআইজি আকরাম হোসেন, পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমিন, পুলিশ সুপার এস এম আক্তারুজ্জামান, জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, সিভিল সার্জন অফিস, সরকারী বিএম কলেজ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন।
নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে জাতির জনক বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতসহ ১৫ আগস্টের কালোরাতে নিহতদের স্মরনে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টায় অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপি, জেবুন্নেছা আফরোজ এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আফজালুল করিম, ১৪ দল, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন। বেলা ১১টায় মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শোক র্যালি বের করা হয়। র্যালীর নেতৃত্বে দেন জেবুন্নেছা আফরোজ এমপি। সাড়ে ১১টায় যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র নেতৃত্বে মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পৃথক শোক র্যালী বের হয়।
সিলেটে জাতীয় শোক দিবস পালিত
সিলেট অফিস জানায়,
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহদাত্ বার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রাঙ্গণে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষপস্তবক অর্পণ করা হয়। এ উপলক্ষে সকাল থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, আনসার ভিডিপি, জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, সিলেট বেতার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ নগরীতে পৃথক শোক র্যালি বের করে।
শোক দিবসের আলোচনা সভা
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৪১ তম মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে জাতীয় শোক দিবসে আলোচনা সভা ও মিলাদ মহফিলের আয়োজন করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ টিবি হাসপাতাল ও বাংলাদেশ স্বাধীনতা নার্সেস এসোসিয়েশন। এসোসিয়েশনের সভাপতি মিসেস নাজমা পারভীনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মতিউল ইসলাম, ফারহানা হক, আব্দুল হাই, কামরুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।