আফসানার মৃত্যু অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে

 
ঢাকায় ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী আফসানা ফেরদৌসের মৃত্যুর ঘটনায় তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ করেছে তার পরিবার। মিরপুরের সাইক ইনস্টিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষার্থী আফসানাকে অচেতন অবস্থায় গত শনিবার রাতে কাফরুলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফেলে যায় দুই তরুণ। এরপর পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। তার গলায় দাগ পাওয়া গেছে।
 
তবে ঢাকা মেডিক্যালের ফরেনসিক বিভাগের একজন চিকিত্সক গত রাতে ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ময়না তদন্ত করে মনে হয়েছে আফসানা আত্মহত্যা করেছে। তাকে কেউ প্ররোচিত করেছে কি-না সেটা ভিন্ন বিষয়। ময়না তদন্তে হত্যার কোনো আলামত মেলেনি। তবে বিষয়টি আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য কিছু আলামত ভিসেরা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।’  
 
আফসানাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে দাবি করে এজন্য তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান রবিনকে দায়ী করছেন তার স্বজনরা। তার ছোট ভাই ফজলে রাব্বি বলেন, ‘রবিনের সঙ্গে তার বোনের বন্ধুত্ব ছিল। ঝগড়া-বিবাদের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা সন্দেহ করছি।’ আফসানার স্বজন কবি ও গল্পকার মুজতবা আহমেদ মুরশেদ বলেন, আফসানা তেজগাঁও এলাকায় থাকাকালে রবিনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। পরে এলাকা ছেড়ে চলে যায় আফসানা। ঘটনার ১০ দিন আগে আফসানা ও রবিনের বন্ধুরা আবার দুই জনকে মিল করিয়ে দেয়। তবে ঘটনার দুই দিন আগে আবার সম্পর্কে ছেদ পড়ে। এই নিয়ে আফসানাকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
 
এখন রবিনের ভাই-বন্ধু পরিচয় দিয়ে মোবাইলে আফসানার মা-ভাইকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে ?জানিয়ে মুরশেদ বলেন, তারা এই বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দিচ্ছে এবং মীমাংসা করার জন্য বলছে। এই ‘হত্যাকাণ্ডের’ সঙ্গে রবিন ছাড়াও সৌরভ ও বাবুসহ কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ করছেন আফসানার স্বজনরা। আফসানার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে থাকে তার পরিবার। শনিবার রাতে তার মাকে মোবাইল করে মেয়ের মৃত্যুসংবাদ জানিয়ে লাশ নিতে বলা হয় বলে মুজতবা আহমেদ মুরশেদ জানান। তিনি বলেন, ওই দিন রাত ৯টার দিকে সৌরভ পরিচয় দিয়ে একজন আফসানার মায়ের কাছে ফোন করে জানায়, আফসানা মারা গেছে। তার লাশ বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। আপনারা এসে লাশ নিয়ে যান।
 
আফসানার মা সৈয়দা ইয়াসমীন ঢাকায় তার ভাইকে বিষয়টি জানালে স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে গিয়ে সেখানে লাশ পাননি। এরপর আরেকটি মোবাইল থেকে বাবু পরিচয় দিয়ে সৈয়দা ইয়াসমীনকে বলা হয়, কাফরুলের আল হেলাল হাসপাতালে আফসানার লাশ রয়েছে। স্বজনরা আল হেলাল হাসপাতালে ছুটে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এক তরুণীর লাশ এখানে এসেছিল তবে পুলিশ নিয়ে গেছে। হাসপাতালের কর্মচারীদের বরাত দিয়ে কাফরুল থানা পুলিশ বলেছে, দুই তরুণ অসুস্থ অবস্থায় এক তরুণীকে নিয়ে আসে। তারা সিএনজি অটোরিকশা থেকে নেমে ফটকে থাকা হাসপাতালের কর্মচারীদের রোগীর ট্রলি আনতে বলে। রোগীকে ট্রলিতে ওঠানোর পর অটো ভাড়া পরিশোধের কথা বলে তারা চলে যায়। এরপর আর ফেরেনি।
 
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই তরুণীকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। পরে থানায় জানালে পুলিশ এসে লাশ নিয়ে যায়। মুরশেদ জানান, তারা কাফরুল থানায় গেলে লাশের ছবি দেখে চিনতে পারেন। তখন পুলিশ তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে যেতে বলে। এরপর মর্গে গিয়ে আমরা লাশ শনাক্ত করি।
 
আল হেলাল হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে কাফরুল থানার ওসি শিকদার মোহাম্মদ শামীম হোসেন বলেছেন, এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা সংগঠনের কর্মী আফসানার মৃত্যু নিয়ে গতকাল বিকালে শাহবাগে প্রতিবাদী সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন।