মীর রাব্বি, এদেশের শোবিজ জগতের এক গুণী সদস্যের নাম। একাধারে টিভি ও মঞ্চে অভিনয়, একটি এফএম স্টেশনের সকল দায়িত্বভার সামলে নিজের লেখালেখি বা গানের প্রতি নিষ্ঠা আর মনোযোগ সবই আছে তার দৈনন্দিন রুটিনে। বিনোদন প্রতিদিনে সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে কথা বললেন তিনি—
এখনকার ব্যস্ততা কেমন?
ব্যস্ততাই সৃজনশীল মানুষের সঙ্গী। নিজের কর্মস্থল রেডিও স্বাধীন নিয়েই বেশ ভালো সময় কাটছে। নাটকে খুব কম কাজ করি, তাই সেখানকার ব্যস্ততা সেরকম নেই। একটি কমেডি টাইপের ধারাবাহিক নাটকে কাজ করছি নাম ‘বউ বকা দেয়’।
ঈদের নাটকে চরিত্র অভিনেতাদের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু থাকে?
আমার মতে, এখন চরিত্রাভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রকাশের সুযোগ খুব কম। কারণটা হলো এখন চরিত্র অভিনেতা হিসেবে খুব বেশি অভিনয়ের সুযোগ নেই, যেটা আজ থেকে ৫/৭ বছর আগে ছিল। এখনকার প্রেক্ষাপটে নাটকের মূল চরিত্র থাকে দুই-তিনটা, সাথে দুই-একটা পার্শ্বচরিত্র রাখা হয়। সেগুলো দিয়ে পুরো নাটক সাজিয়ে কাজ করে ফেলা হয়। সেদিক থেকে চরিত্র অভিনেতা হিসেবে কেউ দেখেও না, কেউ চেনেও না। বর্তমানের নাটকের প্রেক্ষাপটেই বলি, এখনকার নাটকে নাটকের মান, গল্প, মেকিং এসবের চেয়ে কে কে কাজ করেছে সেটাই বেশি লক্ষ্যণীয় থাকে।
আপনাকে পেশাদার অভিনেতা হিসেবে দেখা যায়নি, সামনে দেখা যাবে কি-না?
আপনি একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন আমাদের দেশে খুব কম মানুষই অভিনয় দিয়ে টিকে আছেন। নায়ক/নায়িকা না হতে পারলে পার্শ্বচরিত্রে পেশাদার হয়ে টিকে থাকাটা কঠিন।
রেডিও নাটকের ক্ষেত্রে রেডিও স্বাধীনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
আমাদের পরিকল্পনা ছিল, এখনো আছে। আমরা বেশকিছু নাটকের কাজও করেছি কিন্তু নিজেদের মন মতো না হওয়ায় সেগুলো অনএয়ার করা হয়নি। বেশকিছু কাজ করা হচ্ছে নিজেদের মনের মতো হয়ে গেলে সামনে হয়তো অনএয়ার হবে।
রেডিও প্রোগ্রামের জনপ্রিয়তা কি এখনো আছে? নাকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সেই জায়গাটা দখল করেছে?
প্রোগ্রাম ভালো হলে জনপ্রিয়তা থাকবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমি শ্রোতাদের কতটা ভালো প্রোগ্রাম উপহার দিতে পারলাম। আমাদের দেশে রেডিও চ্যানেলের সংখ্যাও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চেয়েও যেটা বেশি জায়গা দখল করেছে সেটা হলো মেধাবী লোকের অভাব। রেডিও একটা গণমাধ্যম, এখানে কাজের দায়বদ্ধতা আছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেটা নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল জিনিসটাও একটা সময় আলোচনায় চলে আসে তখন কিন্তু এই গণমাধ্যমই ভুল জিনিসটার সত্যকে তুলে ধরে। সেজন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কখনোই গণমাধ্যমের সাথে তুলনায় আসবে না।