মেয়েরাই বিয়ে করে মেয়েদের! কথাটা শুনে অবাক হতে পারেন আপনি, কিন্তু এটাই রীতি এই গ্রামের। তাও চলে আসছে প্রাচীন কাল থেকে! কারও ভ্রূ এতে কুঞ্চিত হয় না। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল‚ এই গ্রামের মানুষের কাছে সমকামিতা অজানা শব্দ!
গ্রামের নাম ন্যায়মঙ্গো। আফ্রিকার তাঞ্জানিয়ার প্রত্যন্ত অংশে আছে এই গ্রাম। বাস করে কুরিয়া সম্প্রদায়ের আদিবাসীরা। এদের মধ্যে প্রচলিত আছে এক আজব রীতি। তাকে বলে 'নায়ুম্বা তোভু'। এর অর্থ হল মহিলাদের বাড়ি। একে বলা যায় 'প্রচলিত সমাজব্যবস্থার পাশাপাশি বিকল্প সমান্তরাল ব্যবস্থা'।
কবে থেকে শুরু হয়েছে‚ উৎস কোথায়‚ কেউ জানে না। শুধু এই রীতিটা পালিত হয়ে আসছে।
IMG0
এই রীতি অনুযায়ী‚ গ্রামের কোনও মহিলা অপুত্রক অবস্থায় বিধবা হলে বা কাউকে তার স্বামী ছেড়ে চলে গেলে‚ তিনি বিয়ে করতেই পারেন বয়সে ছোট কোনও মহিলাকে।
সেই অল্পবয়সী মহিলা আবার তার প্রেমিকের সঙ্গে মিলিত হয়ে জন্ম দিতে পারেন। সেই সন্তানের অধিকার পাবেন ওই বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা।
এই গ্রামে প্রায় ১০-১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে পালিত হয় এই রীতি। যেখানে দুই মহিলা বিয়ে করে দিব্যি সংসার করছেন। জমিতে চাষ‚ রান্নাবান্না‚ সন্তান পালন‚ সবই করছেন হাতে হাত মিলিয়ে। এমনকি‚ একই বিছানায় শোয়া অবধি। কিন্তু যৌনতা এই সম্পর্কে নৈব নৈব চ। কোনও সেক্স বা যৌনতা ছাড়াই এই 'দম্পতি' সংসার করে চলেন।
IMG1
আশ্চর্য বিষয় হল‚ এরা কিন্তু গে বা লেসবিয়ানিজম নিয়ে বিন্দুবিসর্গ জানেন না। বাইরের বিশ্বে যে সমকামিতা প্রচলিত‚ বা তা নিয়ে এত আন্দোলন হয়‚ সেগুলো থেকে এই আফ্রিকান গ্রাম আলোকবর্ষ দূরে।
তাঞ্জানিয়ার জাতীয় ব্যবস্থা সম্পূর্ণ পিতৃতান্ত্রিক। সেখানে আইনি কাঠামোয় এই আদিবাসী রীতির কোনও মান্যতা নেই। এটি টিকে আছে সনাতনী ঐতিহ্যের উপর দাঁড়িয়ে।
সমাজ গবেষকরা মনে করেন‚ আদিবাসী ব্যবস্থায় মহিলাদের প্রতিষ্ঠা ও গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই‚ স্বামীহীনারা যাতে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন‚ তাই এই মেয়ে-মেয়ে বিয়ের রীতি প্রচলিত হয়।
ইত্তেফাক/এএম