জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কোনো দেশ এককভাবে দায়ী নয় : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

 
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, পরিবেশ দূষণের জন্য কোনো দেশ এককভাবে দায়ী নয়। দূষণের দায় যেমন উন্নত দেশের আছে, সাথে সাথে উন্নয়নশীল দেশগুলোও এর জন্য কম দায়ী নয়। তিনি বলেন, এই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কোনো দেশকে এককভাবে দায়ী না করে সমস্যা মোকাবেলায় সব দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক গবেষণা নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান স্টুডিও, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এ সেমিনারের আয়োজন করে।
 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ধারণা নতুন নয়। পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে এ সমস্যা চলে আসছে। এর ফলে অনেক সভ্যতাও ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু অনেকে বলে থাকেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে বাংলাদেশের অনেক এলাকা তলিয়ে যাবে। তিনি বলেন, এটি যেমন সত্য আবার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে ওয়াশিংটন ডিসি, ক্যালিফোর্নিয়াও রক্ষা পাবে না। প্যাসিফিক এবং আটলান্টিক এর মধ্যে যেসব দ্বীপ আছে সেসবও তলিয়ে যাবে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরা অনেক সময় উন্নত দেশগুলোকে দোষারোপ করে তাদের কাছে অর্থ চাই। কিন্তু আমরাও যে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী সে কথাটি ভুলে যাই। খাল, নদী নালা এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আমরা বর্জ্য ফেলি না। দেশের মানুষের রাজধানীমুখী হবার প্রবণতা সম্পর্কে তিনি বলেন, শুধুমাত্র জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে মানুষ রাজধানীমুখী হচ্ছে তা নয়। গ্রামের মানুষ মনে করে নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে হলে রাজধানীতে আসতে হবে। এখানে আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনায়ও গলদ আছে। যারা উচ্চকণ্ঠে কথা বলতে পারে তাদের জন্য আমাদের বরাদ্দ বেশি থাকে। ঢাকার সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য যে অর্থ আমরা ব্যয় করি তা দিয়ে প্রতি উপজেলায় দু-চারটি পাকা রাস্তা করা যায়। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সামগ্রিক আর্থ- সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে আমাদেরকে উন্নয়ন বরাদ্দ দিতে হবে। দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ লবণাক্ততার কারণে পানি পান করতে পারে না, এমনকি কোনো কোনো জায়গায় গোসলও করা যায় না। এ সমস্যা দূর করতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কয়েকটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর আমাদের দেশের উন্নয়ন প্রকৃতি কি হবে তা নির্ধারণ করতে পারিনি। পরনির্ভরশীলতার কারণে আমাদের মনস্তত্ত্ব্বের উন্নতি হয়নি। মনে রাখতে হবে স্বয়ংসম্পূর্ণতা হঠাত্ করে আসে না। গত ২০ বছরে আমাদের উন্নয়ন বরাদ্দ সে অনুপাতে বাড়েনি। কিন্তু অনুন্নয়ন ব্যয় বেড়েছে অনেক। পরিবেশ খাতে গবেষণা পরিচালনার জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এ ধরনের কাজে আরো সহায়তা করবে।
 
“জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে ঢাকা মহানগরের ওপর প্রভাব এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢাকায় অভিগমন ও জীবনধারণ বিষয়ক গবেষণা” শীর্ষক ওই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নগর গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা আজকের পৃথিবীতে একটি বাস্তবতা। এটি নিরসনে সকল দেশ একমত হয়ে চুক্তি করেছে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন কেমন প্রভাব ফেলছে তা জানতে গবেষণা খুবই জরুরি। তিনি বলেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়লে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে। এতে করে বাংলাদেশের চার কোটি লোক বাস্তুহারা হবে। এজন্য অভিবাসন বিষয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা করতে হবে।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমাদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ডুবে গেলে এত লোক কোথায় যাবে। এজন্য ঢাকাকে ঘিরে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে। ঢাকা যাতে বাসযোগ্য থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।
 
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী জ্ঞানরঞ্জন শীল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের জীবন জীবিকা বিপন্ন। এ অবস্থা মাথায় রেখে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এস মাকসুদ কামাল বলেন, গবেষণা খুব গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমরা এ খাতে খুব বেশি অর্থ ব্যয় করি না। এ বিষয়ে আমাদের আরো জোর দিতে হবে।