জঙ্গিবাদের শিকড় তুলতে সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে: ওবায়দুল কাদের

আজ সোমবার বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর ৬নং গ্যালারীতে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার উদ্যোগে সংবাদ চিত্রপ্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২১ই আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় আহত ও নিহতদের স্মরণে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 
উক্ত সংবাদ চিত্রপ্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, জঙ্গি সন্ত্রাসীদের শেকড় সারাদেশে বিস্তৃত। টোকা দিলেই তাদের উপড়ে ফেলা যাবে না। সাংস্কৃতিক জাগরণের মাধ্যমে এদের মোকাবেলা করতে হবে। যা যুবলীগ ইতিমধ্যে শুরু করেছে। যুবলীগের এমন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে হবে।
 
তিনি বলেন, যুবলীগ এখন আর মাস্তানদের সংগঠন নয়, আদর্শিক কর্মীদের সংগঠন। এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা এখন পড়ালেখা করে। তাদের মধ্যে সৌজন্যতাবোধ তৈরি হয়েছে। বর্তমান নেতৃত্বের কল্যাণে যুবলীগে এখন সৌজন্যতাবোধ তৈরি হয়েছে।
 
গ্রেনেড হামলা দিবস স্মরণে তিনি বলেন, ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে যে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছে তা বিএনপি জোট সরকার আর হাওয়া ভবনের কলংক। এই হামলার ফলে তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত রাজনীতি কালিমা। এই কলংক তারা কখনো মুছতে পারবে না। এখনো তার শরীরে ১৪টি স্প্লিন্টার আছে। তাই তিনি নামাজের সেজদায় যেতে পারেন না। তিনি বলেন, সেদিন তারা ধরেই নিয়েছিলো শেখ হাসিনা শেষ হয়ে গেছেন। কিন্তু ইতিহাসের পরিণতি হচ্ছে সেদিন যারা ইতিহাস বদলে দিতে চেয়েছে আজ তারাই ইতিহাস থেকে মুছে যাচ্ছে।
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে স্বাধীনতা আর অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলনের দুই উত্তরাধিকার বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে কেউ মুছতে পারবে না। গত ৪১ বছরে দেশের সবচেয়ে আপোষহীন দৃঢ়চিত্তের স্বাধীনচেতা রাষ্ট্রনায়ক, বিচক্ষণ কূটনৈতিক হচ্ছেন শেখ হাসিনা। তিনি মৃতের ভাগাড়ে দাঁড়িয়েও জীবনের জয়গান গান, ধ্বংসস্তুপের মধ্যে থেকেও সৃষ্টির স্বপ্ন খোঁজেন।
 
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান  মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট রক্তের নদী বয়ে গিয়েছিল শেখ হাসিনার জনসভায়। বোমার স্প্লিন্টার্সের আঘাতে তার একটি কান জখম হয়ে যায়। চিকিৎসা চালাতে হয়েছে দীর্ঘদিন।  আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকে এই হামলায় আহত হয়েছেন। অনেকে এখনো সেই ক্ষত বহন করছেন। আহত, নিহত হয়েছেন অনেকে। সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছে অগণিত মানুষ। নিহতদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান। তখনকার বিরোধী দলীয় নেত্রীর ওপর এই ধরণের বর্বর হামলার নজির সারাবিশ্বে বিরল। বিএনপি তখন ক্ষমতায়। বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী। সব আলামত সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট করে দিয়েছিল। নির্লজ্জভাবে প্রচার করেছিল এই হামলা আওয়ামী লীগের অন্তর্দ্বন্দ্বের ফল। বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের মাস্টারমাইন্ড খালেদা জিয়া।
 
ফারুক চৌধুরী প্রশ্ন রেখে বলেন, পৃথিবীতে সন্ত্রাস বিরোধী কোনো দিবস আছে? তিনি ২১ আগষ্ট-কে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদবিরোধী দিবস জাতীয়ভাবে পালন করার জন্য আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন-মানববন্ধন করে মানুষকে সচেতন করতে হবে।
 
ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তর সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মেদ হোসেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মাহবুবুর রহমান হিরণ, আব্দুস সাত্তার মাসুদ, এ্যাড. বেলাল হোসাইন, আতাউর রহমান, অধ্যাপক এ.বি.এম আমজাদ হোসেন, আনায়োরুল ইসলাম, যুগ্ম-সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ বদিউল আলম, আসাদুল হক আসাদ, ফারুক হাসান তুহিন, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, ইকবাল মাহমুদ বাবলু, শ্যামল কুমার রায়, কার্যনির্বাহী সদস্য শেখ ফজলে নাঈম, শেখ ফজলে ফাহিম, রওশন জামির রানা প্রমুখ।
 
 

ইত্তেফাক/এএন