হাইকোর্টের নির্দেশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গত এক বছরে বিভিন্ন রাস্তা, ফুটপাত, সড়কদ্বীপ, রোড মিডিয়ান ইত্যাদি হতে প্রায় ৪৪ হাজার ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ করেছে। এর মধ্যে অপসারিত ব্যানার ১১ হাজার ২৭৪টি, ফেস্টুন ১৩ হাজার ৯০৫টি এবং পোস্টার ১৮ হাজার ৭২৪টি। এ ছাড়া ৫৭৭টি বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়েছে।
সোমবার সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে হলফনামা আকারে এই প্রতিবেদন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করা হয়েছে। হলফনামায় সিটি করপোরেশন বলেছে, গত বছরের জুলাই মাস হতে চলতি বছরের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মোট ৪৩ হাজার ৯০৩টি ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ করেছে। নগরীকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বসবাসযোগ্য রাখার লক্ষ্যে এই অপসারণ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, লিফলেট, কাট-আউট ইত্যাদি প্রচারণামূলক উপকরণ না লাগানোর অনুরোধ জানিয়ে সকল মন্ত্রণালয়কে পত্র দেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দেয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উক্ত সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় অননুমোদিত বিভিন্ন প্রকার বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, গেইট, তোরণ, দেয়াল লিখন ইত্যাদি অপসারণে করপোরেশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে এই অপসারণ কার্যক্রম ৯০ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। এছাড়া করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে এই অপসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সকল আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষে এই প্রতিবেদন দাখিল করেন অ্যাডভোকেট মোঃ. শাহজাহান।
গত শুক্রবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকা হতে গত এক বছরে প্রায় ২০ হাজার অবৈধ বিলবোর্ড এবং ৭০ হাজার ব্যানার-ফেস্টুন উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই বিষয়টিও হাইকোর্টে দাখিলকৃত হলফনামায় বলা হয়েছে।
রাজধানীতে অননুমোদিত সকল পোস্টার, ব্যানার ও তোরণ ২২ আগস্টের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দেয়াল লিখনও মুছে ফেলতে বলা হয়। হাইকোর্টের ওই নির্দেশ মোতাবেক গতকাল সংশ্লিষ্ট এই হলফনামা দাখিল করা হয়। এখন বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট এক আদেশে অননুমোদিত সকল পোস্টার, ব্যানার ও তোরণ অপসারণের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে রুল জারি করে। গত ১৪ আগস্ট ওই রুল শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে। পরে হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেয়।