আড়াই বছরেও কৌশলগত বিনিয়োগকারী খুঁজে পায়নি স্টক এক্সচেঞ্জ

 
নির্ধারিত সময়ের আড়াই বছরেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী খুঁজে পায়নি। ২০১৩ সালে কার্যকর ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইনে তিন বছরের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে স্টক এক্সচেঞ্জের সংরক্ষিত ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী ডিসেম্বরে। ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবশ্য কৌশলগত বিনিয়োগকারী পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। সম্প্রতি ডিএসইর পক্ষ থেকে দেশি কয়েকটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ব্যাপারে বৈঠক করা হয়েছে।
 
জানা গেছে, কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার বিক্রির বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা খুবই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন বলেছেন, নির্ধারিত সময় শেষে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী খুঁজে পাইনি এমন ধরনের কথা মেনে নেওয়া হবে না। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর এক চিঠিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) উভয় স্টক এক্সচেঞ্জকে এক বছরের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে  শেয়ার বিক্রির নির্দেশ দিয়েছিল। এরই মধ্যে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের স্টক এক্সচেঞ্জ, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকসহ শীর্ষ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে তা থেকে কাঙ্ক্ষিত কোন ফল পাওয়া যায়নি। এদিকে সিএসইও কৌশলগত বিনিয়োগকারী খুঁজে পেতে পরামর্শক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
 
ডিএসইর বর্তমান পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৮০৩ কোটি টাকা। এ হিসাবে কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে স্টক এক্সচেঞ্জটিকে অভিহিত মূল্যে প্রায় ৪৫১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করতে হবে। ডিএসই চাইছে এ শেয়ার প্রিমিয়ামে বিক্রি করতে। আর সিএসইকে অভিহিত মূল্যে ১৫৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকারও বেশি শেয়ার বিক্রি করতে হবে। এর বাইরে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ৩৫ শতাংশ করে শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রি করবে।
 
কৌশলগত বা স্ট্র্যাটেজিক বিনিয়োগকারী হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত দেশি বা বিদেশি কোনো স্টক এক্সচেঞ্জ, কোনো বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক কোম্পানি, বিনিয়োগ ব্যাংক বা কোনো স্বনামধন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান। স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সঙ্গে শেয়ার বিক্রির চুক্তি না হলে কমিশন অবশ্য সময় বাড়াতে পারবে। বর্ধিত সময়েও  কৌশলগত বিনিয়োগকারী খুঁজে না পেলে কমিশনের অনুমোদনক্রমে অন্য যে কারও কাছে শেয়ার বিক্রি করতে পারবে স্টক এক্সচেঞ্জ।