নিজাম হাজারীর এমপি পদে থাকা সংক্রান্ত রায় পেছাল

 
ফেনী-২ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর এমপি পদের বৈধতা সংক্রান্ত রিটের রায় আবারো পেছাল। হাইকোর্ট আগামী মঙ্গলবার এই বিষয়ে রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন। 
 
বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের ডিভিশন বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন। 
 
এর আগে অর্থ মামলায় নিম্ন আদালতের সাজার রায় ঘোষণার পূর্বে নিজাম হাজারী কতদিন হাজতবাস করেছিলেন এ সংক্রান্ত তথ্যের উপর উভয় পক্ষের আইনজীবীরা শুনানি শেষে হাইকোর্টে পুনরায় রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেন। 
 
আদালত বলে, আমরা এই মামলার আপিলের রেকর্ড তলব করেছি। ঐ রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে যে, নিম্ন আদালতের রায়ের পূর্বে নিজাম হাজারী চার মাস ছয় দিন হাজাতবাস করেছেন। এ পর্যায়ের নিজামী আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন চার মাস ছয়দিন নয় চার মাস ২৩ দিন হবে। 
 
তিনি বলেন, এ ধরনের চাঞ্চল্যকর ইস্যুতে সংবাদপত্রে প্রতিবাদ দিয়ে জেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিজাম হাজারী পুরো সাজা খেটে মুক্তি পেয়েছিলেন। আবার তারা আদালতের নির্দেশে প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, তিনি পুরোপুরি সাজা ভোগ না করে কারামুক্তি পেয়েছেন।  চাঞ্চল্যকর একটি বিষয়ে জেল কর্তৃপক্ষের এরকম ভূমিকা দুঃখজনক। 
 
নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, রায় ঘোষণার পূর্বে আসলে নিজাম হাজারী কতদিন হাজতবাস করেছেন এই তথ্য জেল কর্তৃপক্ষের কাছেই রয়েছে। 
 
হাজারীর আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, নিজাম হাজারী পুরো সাজা খেটেই কারামুক্তি পেয়েছেন। এছাড়া এই বিষয়ে জনস্বার্থে রিট করারও কোনো সুযোগ নেই। কারণ আপিল বিভাগের এক রায়ে বলা হয়েছে, কোন কোন ক্ষেত্রে জনস্বার্থে মামলা করা যাবে।
 
‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। এতে বলা হয়, ২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের এক মামলায় নিজাম হাজারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। কিন্তু দুই বছর ১০ মাস কম সাজা খেটে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। দণ্ডের মেয়াদের মধ্যেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া। 
 
রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬(২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে। সে হিসাবে নিজাম হাজারী ২০১৫ সালের আগে সংসদ সদস্য হতে পারেন না। অথচ তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এমপি হয়েছেন। হাইকোর্টের নির্দেশে কারাকর্তৃপক্ষ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এতেও দেখা যায় তিনি আদালতের দেয়া দণ্ড সম্পূর্ণ ভোগ না করে কারসাজির মাধ্যমে জেল থেকে মুক্তি পান।
 
ইত্তেফাক/এএসএস