বোনকে বিরক্তের প্রতিবাদে বড় ভাইকে এলাকা ছাড়া

উপজেলার চালতপাড় ইউনিয়নের ফেদিয়াকান্দি গ্রামের মকসুদ আলীর মেয়ে মমতা বেগম। সে এবার বড়নগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। দীর্ঘ দিন থেকে স্কুলে যাওয়া আসার পথে তাকে কিছু বখাটেরা উত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয় ভাবে বিচার-সালিশ করে বন্ধ হয়নি উত্যক্ত করা। শেষে মমতার বড় ভাই জিতু মিয়া বাদী হয়ে চারজন বখাটেকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এর পর থেকে ওই পরিবার গৃহবন্দি, বড় ভাই বাড়ি ছাড়া। 

জানা যায়, পরীক্ষার এক বছর আগে থেকে মমতাকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্যক্ত করত গ্রামের দ্বীন ইসলাম, মজিদ ভূঁইয়া, মির্জা আলী, নুর ইসলাম। তারা প্রায়ই মমতার রাস্তা অবরোধ করে অশ্লীল শব্দ এবং অশ্লীল শারীরিক অঙ্গ ভঙ্গি করতো। লজ্জায় সে পরিবার বা স্কুলের কাউকে বিষয়টি অবহিত করেনি। 

শিক্ষার্থী মমতা বেগম জানান, ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায় স্কুলে যাওয়ার পথে দ্বীন ইসলাম ও মজিদ ভূঁইয়া আমার ওড়না ধরে টানাটানি করে। তখন আমি চিৎকার করলে চাচা এগিয়ে এলে তারা পলিয়ে যায়। ওই দিন দুপুরে আমার বড় ভাই জিতু মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর আমার পরিবার গৃহবন্দী হয়ে আছে। বড় ভাই জিতুকে হত্যার হুমকি দেওয়ায় সে ভয়ে বাড়ি ছাড়া। মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ বিউরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিআইবি)।

জিতু মিয়া বলেন, আমার বোনকে দ্বীন ইসলামসহ তার সঙ্গীয় বখাটেরা বিরক্ত করতো। তার পরিবার প্রভাবশালী। তাদের কথায় গ্রামের মানুষ উঠে বসে। ভয়ে কেউ তাদের বিপক্ষে সাক্ষী দিতে চায়না। এসব দেখে আমার বৃদ্ধ বাবা-মাও এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গ্রামের মেম্বারের কাছে বিচার চেয়ে পাইনি। তাই আদালতে মামলা করেছি। মামলার পর আমি বাড়ি ছাড়া। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। 

আরো পড়ুন: আমি এখনও সেরা: কর্তোয়া

এদিকে ফেদিয়ারকান্দি গ্রামের ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার কাউছারের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। 

পিআইবির তদন্তকারী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, গ্রামবাসী এবং বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রকৃত ঘটনার বের করতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে উভয়ের মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ আছে। 

ইত্তেফাক/অনি