বন্ধ ছিল কুলিং ইউনিট অকেজো সেফটি ভাল্ব

ওভারহোলিং না করানো, কুলিং ইউনিট বন্ধ থাকা ও সেফটি ভাল্ব অকেজো থাকাকেই চট্টগ্রাম ডিএপি সার কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাস ট্যাংক বিস্ফোরণের মূল কারণ বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলী। ২০০৬ সালে ডিএপি-১ এবং ডিএপি-২ সার কারখানায় উত্পাদন শুরু করার পর থেকে আজ পর্যন্ত একবারও এগুলো ওভারহোলিং করা হয়নি। ইতিমধ্যে কারখানার টেকনিক্যাল কমিটির পক্ষ থেকে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছিল ওভারহোলিং করার জন্য। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ওভারহোলিং করা হলে ট্যাংকের কোথায় ত্রুটি ছিল তা আগেই নির্ণয় করে সারিয়ে ফেলা যেত।
 
জানা যায়, বিস্ফোরিত ট্যাংকটির ভেতরের প্রথম স্তর ১০ মিলিমিটার পুরুত্বের কাস্টন স্টিল (সিএস) দিয়ে তৈরি। তার ওপর তুলা বা ফোম জাতীয় পদার্থ দ্বারা আচ্ছাদিত করা। তার উপর সর্বশেষ ওপরের অংশ ৫ মিলিমিটার পুরুত্বের টিনশিট দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তরল অ্যামোনিয়া   গ্যাস মাইনাস ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উক্ত ট্যাংকে রেখে ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরো ট্যাংকের স্টিল এবং টিনশিট আলাদাভাবে একটির সাথে অপরটি ওয়েল্ডিং করে নির্মাণ করা হয়েছে। এই ওয়েল্ডিং এর কোন জায়গায় মরিচা বা রাস্ট আসতে পারে। মরিচা থেকে পর্যায়ক্রমে ছিদ্রের সৃষ্টি হয়ে গ্যাসের অতিরিক্ত চাপে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে বিস্ফোরিত ট্যাংকের ফেটে ও ভেঙ্গে যাওয়া অংশ পরখ করে অনেক কিছু অনুমান করা যায়। তাছাড়া ট্যাংকের কিছু অংশ ওই সময় ভেঙ্গে গেছে বলে দেখা গেছে। ধারনা করা যায়  ট্যাংকটি ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে বা মরিচার জন্য ফেটে ছিদ্র হওয়ার পর উচ্চ চাপে থাকা অ্যামোনিয়ার বিস্ফোরণ হতে পারে।
 
এদিকে সংশ্লিষ্ট অপর এক কর্মকর্তার মতে, মূল অ্যামোনিয়া গ্যাস ট্যাংকের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ট্যাংকের কাছে একটি কুলিং ইউনিট রয়েছে। ট্যাংকের গ্যাসের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এই রেফ্রিজারেটিং সিস্টেম রাখা হয়েছে। কিন্তু গত প্রায় এক বছর ধরে কুলিং ইউনিট বন্ধ হয়ে আছে। আবার ট্যাংকের ভেতর গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পেলে এর সাথে সংযোগ থাকা সেফটি ভাল্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে গিয়ে চাপ কমাতে সহায়তা করে থাকে। কিন্তু এটিও অকেজো রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
 
বিসিআইসি’র পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানা যায়। সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ও রাতে দুই দফায় ডিএপি সার কারখানার প্রধান প্রকৌশলীসহ অন্য সকল প্রকৌশলী মতামত গ্রহণ করা হয়। জানা যায়, নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন সরবরাহ করে প্রত্যেকে লিখিতভাবে উত্তর দিতে বলা হয়। তদন্তের আওতায় থাকা অন্যান্যদের কাছ থেকে একইভাবে মতামত নেয়া হয় বলে জানা যায়। ­তদন্ত কমিটি তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার সময়সীমা থাকলেও কখন প্রতিবেদন দেয়া হবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না।
 
ডিএপি সার কারখানার ১ নং ইউনিটের ট্যাংক বিস্ফোরণের ফলে ছড়িয়ে পড়া অ্যামোনিয়ার প্রভাবে আশপাশের খাল ও জলাশয়ের বিপুল পরিমাণে মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠে। গত তিনদিন ধরে মাছ পচে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। আশপাশের খাল ও জলাশয়ে মাছ চাষকারী লোকজন কারখানা এলাকায় ক্ষতিপূরণের জন্য ধর্না দিচ্ছেন। তবে এসব খাল ও জলাশয় ব্যক্তি মালিকানাধীন নয় বলে জানা যায়। তাই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও প্রদান নিয়ে ইতিমধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
 
নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দল আসছে আজ
 
১০ বছর আগে এডিপি সার কারখানার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চায়না কমপ্ল্যান্ট কোম্পানির প্রতিনিধি দল আজ শুক্রবার চট্টগ্রামে আসছেন বলে জানান কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমল বড়ুয়া।
 
 

ইত্তেফাক/এএন