মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত, চিকিৎসকরা ব্যস্ত ক্লিনিকে

নেত্রকোনার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও সরকারি ওষুধ না পাওয়ায় রোগীরা এখন বাধ্য হয়ে ডায়াগনেস্টিক সেন্টার মুখী হচ্ছে।
 
কিছু দিন আগেও এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন শ রোগী চিকিৎসা সেবার জন্য আসতো। বর্তমানে সেবার মান পড়ে যাওয়ায় ৫০-৬০ জন রোগী আসছে। কর্মরত চিকিৎসক হাসপাতালে হাজিরা খাতায় সাক্ষর করেই প্রাইভেট রোগী দেখতে ক্লিনিকগুলোতে সময় ব্যয় করছেন বেশি। যে কারণে হাসপাতালে আগত রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
 
অভিযোগ রয়েছে, বেশ কিছুদিন আগে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করা হয়েছে।  অজ্ঞাত কারণে আজও সেই মেশিনচালু হচ্ছে না। পাশাপাশি এক্সরে, প্যাথলজি, দন্ত বিভাগের কোনো জনবল না থাকায় এসব যন্ত্রপাতি অচল পড়ে রয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় স্থানীয় সাংবাদিকরা হাসপাতাল গেলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল কদ্দুছ ও ডাক্তার নাদিয়া নাসরিনকে কর্মরত অবস্থায় দেখতে পান। এ নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে অন্যান্য ডাক্তার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ফোন করে ডা. সাদিকুর রহমান, আমিনুর রহমান খান, মোহাম্মদ ফজলুল বারী, জহিরুল ইসলাম ও তাপস বিশ্বাসকে তার চেম্বারে ডেকে আনেন।
 
তিনি জানান, হাসপাতালে মোট ১৪ জন ডাক্তার কর্মরত আছেন। এর মধ্যে ডেপুটেশনে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে ডাক্তার জীবন কৃষ্ণ, ডা. মাহমুদুর রহমান রয়েছেন। প্রশিক্ষণে রয়েছে ডা. কাউছার আমিন ভূইঁয়া।
 
তিনি আরো জানান, চিকিৎসকদের থাকার মতো কোনো বাসা নেই। হাসপাতালের পুরাতন ভবনে ফাটল ও প্লাস্টার খসে পড়ায় চিকিৎসকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। অপর দিকে নতুন ভবন ব্যবহারের আগেই ছাদের পানি প্রতিটি কক্ষে চুইয়ে পড়ে শেওলা জমেছে। যে কারণে কক্ষগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
 
হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ২০০৭ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় দিনে দিনে সেবার মানে অবনতি ঘটছে। এ উপজেলার দুই লক্ষাধিক লোকসহ পাশের হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরি, মোহনগঞ্জ ও আটপাড়া উপজেলার অনেক রোগী প্রতিনিয়ত সেবা নিতে আসে।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ