মঠবাড়িয়ায় এনজিও এর বিরদ্ধে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় সোনালী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন নামে একটি মাইক্রোক্রেডিট সংস্থার বিরুদ্ধে দরিদ্র গ্রাহকদের জমাকৃত ৩৫ লক্ষ টাকা সঞ্চয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে এ অভিযোগে মাইক্রো ক্রেডিট কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই এক আদেশে সংস্থাটির সনদ বাতিল করে। পাশাপাশি সকল গ্রাহকদের সঞ্চয়ী অর্থ সাত কার্যদিবসে ফেরত দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট অথরিটিকে লিখিত নির্দেশ দেয়া হয়। ওই নির্দেশ মোতাবেক সঞ্চয়কৃত অর্থ সংস্থাটি ফেরত না দিয়ে তালবাহানা শুরু করে। এ ঘটনায় গত ২৭ জুন মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শাখা ব্যবস্থাপক মোস্তফা শহিদুল আলম বাদী হয়ে মহাপরিচালক একেএম শামস উদ্দিন আজাদ ও নির্বাহী পরিচালক শাহাদাৎ হোসেনসহ সংস্থার চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
 
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরির (এমআরএ- রেজি নম্বর- ০০০৭১০২৯৬৩০০৮৫) অনুমোদন নিয়ে ওই উপজেলায় ১০টি শাখা চালু করে সংস্থাটি। এসব শাখায় উপজেলার কয়েক হাজার গ্রাহক ঋণ লাভের আশায় সমিতির মাধ্যমে সঞ্চয় জমা দেন। কিন্তু সংস্থাটি ঋণ সুবিধা না দিয়ে গত দুই বছর আগে উপজেলার গুলিসাখালী ইউনিয়ন শাখাসহ চারটি শাখা গুটিয়ে নেয়। পরে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা গত দুই বছর ধরে ধর্ণা দিয়েও সঞ্চয়ের সমুদয় অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না।
 
সোনালী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন বান্ধবপাড়া শাখার উন্নয়ন কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা জানান, ২০১০ সাল থেকে গুলিসা খালী শাখা থেকে ৩১৪ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা সঞ্চয় গ্রহণ করা হয়। অতিরিক্ত মুনাফা ও দ্বিগুণ লভ্যাংশ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে সমিতির মাধ্যমে মাসিক সর্বনিম্ন ১০০ থেকে ৫০০ টাকা সঞ্চয় আদায় করা হয়। কিন্তু মেয়াদ শেষে সঞ্চয়কৃত টাকা সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের ফেরত না দেয়ায় মাঠ পর্যায়ে গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
 
ওই ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
 
এদিকে এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার মঠবাড়িয়া পৌর শহরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। প্রতারণার শিকার তিন শতাধিক গ্রাহক এতে অংশ নেন।
 
মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ সমাবেশে ভুক্তভোগী আলী রেজা রঞ্জু, মোস্তফা শহীদুল আলম, মো. মাইনুল ইসলাম, সুলতানা রাজিয়া ও পারভীন আক্তার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
 
ইত্তেফাক/এএসমইউ