নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অভিযানে রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ কানাডা প্রবাসী তামিম চৌধুরী ও তার দুই সহযোগী নিহত হয়েছেন।
শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া কবরস্থানের পাশের একটি তিনতলা ভবনে ‘অপারেশন হিট স্ট্রং-২৭’ নামে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযান শেষে ওই আস্তানা থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, পিস্তল ও তিনটি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করে বলেন, ‘নিউ জেএমবির প্রধান তামিম চৌধুরীসহ তিনজন নিহত হয়েছে। এই সময় জঙ্গিদের আত্মসর্মপণের আহ্বান জানালেও তারা তা না শুনে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে পুলিশের ওপর হামলায়। এ সময় পুলিশ পাল্টা গুলি ছোড়ে।’
এদিকে অপারেশনের জড়িত অন্য একটি সূত্র জানায় কল্যাণপুরের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত রিগানকে নিহতদের ছবি দেখালে তিনি অপর দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত করেন। এরা হলেন মানিক (৩৫) ও ইকবাল(২৫) ।
জানা গেছে, গত রমজানে গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার কয়েকদিন পর মানিক নামে এক যুবক নিজেকে একমি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরির পরিচয় দিয়ে পাইকপাড়া কবরস্থানের পাশে নুরুদ্দিন দেওয়ানের তিনতালা ভবনের তৃতীয় তলাটি ভাড়া নেন। অধিকাংশ সময় এদের দরজা জানালা বন্ধ থাকতো। তামিম চৌধুরী খুব একটা বাইরে না আসলেও অপর দুই জঙ্গি মানিক ও ইকবাল প্রায়ই বাইরে বের হতেন।
শনিবার ভোরে কাউন্টার টেরোরিজম ও সোয়াতের বিশাল বাহিনী মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে এলাকায় প্রবেশ করে বাড়িটি ঘেরাও করে ফেলে। এই সময় বাড়ির সামনে ও আশে পাশের রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময় ওই এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে পুলিশ জঙ্গিদের আত্মসর্মপণের আহ্বান জানায়। জঙ্গিরা পুলিশের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে গ্রেনেড ছুড়ে মারে। এক পর্যায়ে ঘর থেকে ধোয়া বের হতে দেখে সকাল ৯টার দিকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অপারেশন হিট স্ট্রং-২৭ এর সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়ে। পরে জঙ্গিদের সঙ্গে দুই ঘণ্টা গুলি বিনিময় শেষে সাড়ে ১০টার দিকে তামিমসহ তিনজন নিহত হন। অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশও যোগ দেয়।