‘দিন শেষে আমাদের কাজটি শিল্প, ব্যবসা নয়’

নির্মাতা মাসুদ সেজান। অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকের পরিচালক এই মানুষটি। বর্তমান সময়ে নাটক নিয়ে যখন সবাই হতাশ সেই সময়ও তার ‘চলিতেছে সার্কাস’ ধারাবাহিক নাটকটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। নাটকটির মধ্য দিয়ে দর্শকদের হাসানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ম্যাসেজও দিচ্ছেন তিনি। নিয়মিত কাজের পাশাপাশি সামনে ঈদকে ঘিরে চলছে তার এখনকার ব্যস্ততা।
 
নিজের কাজের প্রসঙ্গ, নাটকের বর্তমান অবস্থা ও দর্শকদের আগ্রহ প্রসঙ্গে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে—
 
‘আবৃত্তিলোক’ নামের একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন? এখন সেটির খবর কি?
আবৃত্তি সংগঠন, মঞ্চনাটকের জন্য নাট্যকেন্দ্র আর পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নেওয়ার পর ১৯৯৮ সালে ‘আবৃত্তিলোক’ শুরু করি। এরপর ৬ বছর ভালোমতো চালাতে পেরেছি। পরে বেশকিছু সমস্যার কারণে আর চলমান রাখা সম্ভব হয়নি।
 
আপনি সাধারণত কী ধরনের নাটক নির্মাণ করতে পছন্দ করেন?
নাটক নিয়ে আমাদের যে প্রচলিত ধারণা ‘হাসির নাটক’ কিংবা ‘সিরিয়াস নাটক’ আমি এই বিভাজন মানি না। আমি সমসাময়িক ঘটনা, সামাজিক অসঙ্গতি এসব নিয়ে নাটক নির্মাণ করতে পছন্দ করি। আমার নাটকে জীবন ও সমাজের সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে চাই।
 
নাটকের মধ্য দিয়ে যা প্রকাশ করেন সেটা দর্শক কতটুকু দেখেন বা কতটুকুই বা দর্শককে বদলাতে পারে?
আমি আমার নাটকের মধ্য দিয়ে ঘুমন্ত মানুষগুলোকে জাগিয়ে তুলতে চাই। বলতে চাই, আপনারা জেগে উঠলে সমাজের কয়েকজন খারাপ মানুষ পালানোর পথ খুঁজে পাবে না। দর্শক সেটা অবশ্যই দেখেন। যারা দেখেন তারা নিজেকে হয়তো বদলে ফেলে বদলানোর চেষ্টা করেন। আর নাটক দিয়ে পুরো দেশটাকে তো বদলে ফেলা সম্ভবও না, পাশাপাশি নিজেদের সচেতন হওয়াও দরকার।
 
দেশের নাটকের মান আপনার চোখে কেমন?
আমাদের দেশের নাটকের মান অত্যন্ত ভালো, আবার অত্যন্ত খারাপও। আমি বলতে চাচ্ছি, এখানে ভালো নাটক যেমন নির্মিত হচ্ছে তেমনি খারাপ নাটকের সংখ্যাও কম নয়। শুধু সংক্ষেপে এটুকু বলতে পারি, বাংলাদেশে মানসম্পন্ন নাট্যকার আছেন, মানসম্পন্ন ডিরেক্টর আছেন, তাদের আগে মান্য করতে হবে। সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া মান নির্ধারণের হিসেব-নিকেশ করাটাও বেশ কষ্টসাধ্য।
 
জনশ্রুতি আছে আমাদের নাটক দর্শক বেশি দেখেন না। এর কারণ কী মনে করেন?
আমাদের নাটক দর্শক বেশি দেখতে চায়, কিন্তু চ্যানেলগুলো দেখাচ্ছে না। কারণ আমাদের চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপন খুব পছন্দ করে। তাদের গবেষণার অন্যতম বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কতগুলো বিজ্ঞাপন এজেন্সি তাদের হাতে আছে, কতগুলোকে তাদের হাতে আনতে হবে। এই সুযোগে এখন এজেন্সিগুলোই নিজেদের লাভ-লোকসানের হিসেব কষে নাটক কিনতে শুরু করেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের দর্শক ভিনদেশি চ্যানেলের প্রতি আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবে।
 
শোনা যাচ্ছে নির্মাতারা এখন সস্তা জনপ্রিয়তার দিকে ঝুঁকছেন। গায়কদের নায়ক বানাচ্ছেন অনেকেই। এতে করে সত্যিকারের জাত অভিনেতাদের আক্ষেপের একটা জায়গা তৈরি হচ্ছে, বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?
এই ধরনের মৌসুমি অভিনেতা আগেও ছিল, এখনো আছে, সামনেও থাকবে। একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন দর্শক কিন্তু এদেরকে বেশিদিন মনে রাখেন না, টিকে থাকেন ওই জাত অভিনেতারাই। আর নাটক তো এখন বিজ্ঞাপন সংস্থার হাতে। এখন নাটকে অভিনেতা, চরিত্র এসবের চেয়ে ব্যবসাটাকে বড় করে দেখা হচ্ছে। আমরা যারা কাজ করছি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না দিন শেষে আমাদের কাজটি শিল্প, ব্যবসা নয়। যারা কাজ করছেন তাদের সবারই মাথায় রাখা দরকার দিন শেষে শিল্পটি যেন ব্যবসা হিসেবে পরিচিত না হয়।
 
আপনার সাম্প্রতিক কাজ এবং ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন—
ঈদের জন্য ৬ পর্বের দুটি ধারাবাহিক নির্মাণ করছি। একটি আরটিভিতে, আরেকটি বাংলাভিশনে প্রচার হবে। আর একটি এক ঘণ্টার দীর্ঘ ধারাবাহিক নাম ‘চলিতেছে সার্কাস’, যেটি প্রচার হচ্ছে বাংলাভিশনে। আজ সেটির ১৫০তম পর্ব প্রচার হচ্ছে। যেখানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের রঙ্গ মঞ্চে আমরা নিয়মিত নানা অভিনয় করে যাচ্ছি।
 
চলচ্চিত্র নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
প্রস্তুতি নিচ্ছি, কাজগুলো একটু গুছিয়ে নিয়ে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবো।
সাক্ষাত্কার:দেবব্রত ভৌমিক