একটি কৃত্রিম পা পেলে আবার হাঁটতে পারবে স্বর্ণা মনি

একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে স্বর্ণা মনি’র জীবনের সকল স্বপ্ন। হারিয়েছে একটি পা। একটি কৃত্রিম পা হলে সে আবার হাঁটতে পারবে।
 
গত ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর এসএসসি পরিক্ষার্থী মেধাবী ছাত্রী স্বর্ণা মনি কোচিং সেন্টারে পড়া শেষে অটোরিকশায় চড়ে সান্তাহার থেকে গ্রামের বাড়ি দমদমা ফিরছিলেন। পথিমধ্যে সান্তাহার সাইলো সড়কে অটোরিকশার সাথে একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনায় স্বর্ণার ডান পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর স্বর্ণাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষায় স্বর্ণার পায়ের হাঁড়ে ক্যান্সার ধড়া পড়ে। চিকিত্সকরা স্বর্ণাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য বিদেশ নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু স্বর্ণার বাবা ভ্যান চালক হারুনুর রশিদের পক্ষে বিদেশে নিয়ে চিকিত্সা করা সম্ভব হয়নি।
 
স্বর্ণাকে সিরাজগঞ্জ খাজা ইউনুস আলি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিত্সকরা মতামত দেন স্বর্ণাকে বাঁচাতে হলে তার পা কেটে ফেলতে হবে। চিকিত্সকদের এমন সিদ্ধান্তে ভেঙে পড়ে স্বর্ণা ও তার পরিবার। অবশেষে চিকিত্সকদের পরামর্শ মতে অপারেশনের মাধ্যমে স্বর্ণার ডান পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে আলাদা করা হয়। কৃত্রিম পা লাগাতে পারলে সে আবার হাঁটতে পারবে। বর্তমানে বাড়িতে বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় দিন কাটছে স্বর্ণার।
 
কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বর্ণা জানান, আমার জীবনে বড় আশা ছিল লেখাপড়া শেষে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে অসহায় বাবা, মা ও ছোট ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়াবো। সংসার থেকে অভাব অনটন দূর করে সবার মুখে হাসি ফোটাবো। কেউ যদি আমাকে একটা কৃত্রিম পা দিয়ে সাহায্য করতো তা হলে আমি আবার লেখাপড়া শুরু করতাম।
 
 
ইত্তেফাক/এএন