‘জনগণের আবেগ-আকাঙ্খার প্রতি সংবেদনশীলতাই গণতন্ত্র’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ধর্ম হলো জনগণের আবেগ ও আকাঙ্খার প্রতি সংবেদনশীলতা। গণতান্ত্রিক সরকারকে নির্বাচনে জিততে হয় ও জনসাধারণের সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। নির্বাচিত সরকারের মূল দৃষ্টি থাকে উন্নয়ন ও জনকল্যাণের ওপর। বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির সর্বোচ্চ রেকর্ডগুলো অর্জন করছে। দুই দেশই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। গত ৫ থেকে ১০ বছরে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ও অভূতপূর্ব উন্নতি অর্জন করেছে।
 
রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র এবং লিঙ্গ সমতা’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কালেকটিভ (আরডিসি) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। ভারতের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান স্টাডিজ ও ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
 
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, মানুষের সমঅধিকার ও সমমর্যাদা নিশ্চিত করতে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করে গেছেন। তাঁর রাজনীতির মূলমন্ত্র ছিল গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ এবং সমাজতন্ত্র। তিনি বলতেন ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
 
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দারিদ্র্য বিমোচন, মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়নসহ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তৃণমূল নারীদের এগিয়ে নিতে সরকার ইতোমধ্যেই নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে গণতন্ত্রের বিভিন্ন জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
 
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, প্রগতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতা অপরিহার্য। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। 
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি  অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক অনুষ্ঠানের সভাপতির  বক্তব্যে বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, সমতা, উদারতা, নারীর সমঅধিকার, সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি, দারিদ্র বিমোচন এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি সাধন। শান্তি, সমৃদ্ধি, প্রগতি, স্থিতিশীলতা এবং আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে রাজনীতি থেকে ধর্মকে আলাদা করা গুরুত্বপূর্ণ। 
 
তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দেশের সকল ক্ষেত্রে নারীরা অনেক এগিয়েছেন। তারপরও নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা থেমে নেই। একমাত্র শিক্ষাই সহিংসতা থেকে মুক্ত করে নারীর ক্ষতায়ন নিশ্চিত করতে পারে। 
 
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভারতের জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রেজওয়ান কায়সার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান। দু’দিন ব্যাপী এ সম্মেলনে বাংলাদেশ ও ভারতের শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করছেন।  
 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই