ব্রাদার প্রদীপ প্লাসিড গমেজ, সি.এস.সি.
অধ্যক্ষ
সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
এইচ.এস.সি.পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জানাই স্নেহপূর্ণ শুভেচ্ছা। কেমন আছো তোমরা? অবশ্যই আসন্ন পরীক্ষা নিয়ে মাঝে মধ্যে বিচলিত বোধ করছো। কিছুটা বিচলিত অনুভব করা ও নিজের মধ্যে সামান্য ভয়ের সঞ্চার হতেই পারে। তোমাদের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা খুবই কাছে। আশা করি, তোমরা গভীরভাবে উপলব্ধি কর যে, এইচএসসি.পরীক্ষা তোমাদের জীবনে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করার জন্য, জীবনে ভালো কিছ ুকরার এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তোমাদের মধ্যে যারা ভালো শেখার জন্য ও পরীক্ষায় ভালো করার জন্য নিয়মিত কলেজে ক্লাস করেছো, প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসগুলো মনোযোগ দিয়ে করেছো, বাসায় নিয়মিত পড়ালেখা করে কলেজের প্রথম ও দ্বিতীয়বর্ষের পরীক্ষাগুলোতে ভালোফল করার চেষ্টা করেছো অর্থাত্ যারা সিলেবাস অনুসারে পাঠ্যপুস্তকগুলো আয়ত্ত করেছো তাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। প্রিয় পরীক্ষার্থী বন্ধুরা চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রাক্কালে আমি তোমাদের পরামর্শ দেব: তোমরা গত দুই বছরের পড়াগুলো বারবার রিভিশন দাও। প্রতিদিন অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা পড়া বিষয়গুলো লেখার চেষ্টা কর। এতে লেখা যেমন ভালো হবে তেমনি লেখা দ্রুত হবে। যখনই কোন জায়গায় কোনো অসুবিধা বোধ করবে তখনই তোমার কলেজের শিক্ষকের সাহায্য নেবে।
আমি প্রত্যাশা করি তুমি এইচএসসি পরীক্ষার রুটিনটি তোমার পড়ার টেবিলের সামনে রেখেছো। রুটিনটি দেখে ভালো মতো একটি পরিকল্পনা করো যেন পরীক্ষার সময় প্রতিটি বিষয় রিভিশন দেওয়ার সুযোগ পাও। পরীক্ষা চলাকালীন যে বিষয়ের আগে ছুটি নেই বা কম সময় পাবে সেই বিষয়গুলো আগেই ভালোভাবে পড়ে রাখো।
এখন বা পরীক্ষা চলাকালীন সারারাত জেগে পড়ার কোন অর্থ হয় না। তুমি দিনে যথেষ্ট পড়, রাতে চেষ্টা কর যথেষ্ট ঘুমাতে। তুমি মনে রেখো, তোমাকে পরীক্ষা চলাকালীন অবশ্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। এ সময়ে অথবা পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়লে তোমার মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুতরাং তোমাকে সময় মতো যথেষ্ট খেতে হবে, পানি পান করতে হবে এবং যথেষ্ট বিশ্রাম নিতে হবে। তোমাকে মনে রাখতে হবে,‘সুস্থ দেহে সুস্থ মন’। পরীক্ষার সময় তোমাকে মনেপ্রাণে সুস্থ থাকতেই হবে। প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড হাতে পাওয়ার পর অবশ্যই ফটোকপি করে তোমার ঘরে রাখো। দেখে নাও তোমার সব তথ্য সঠিক আছে কিনা। ঠিক না থাকলে তোমার কলেজে যোগাযোগ করো। পরীক্ষার সময় তোমাকে প্রবেশপত্রের ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের মূলকপি পরীক্ষার হলে নিয়ে যেতে হবে। পরীক্ষার আগের রাতেই তুমি তোমার প্রয়োজনীয় সবকিছু ভালো মতো দেখে ঠিক করে রেখো। শেষ মুহূর্তে হাতের কাছে সব কিছু না পেলে তুমি বেশি বিচলিত হয়ে পড়তে পারো। তুমি চেষ্টা করো যেন,পরীক্ষা শুরু হওয়ার অন্তত ৩০-৩৫ মিনিট আগে পরীক্ষার হলে উপস্থিত থাকতে পারো। মনে রেখো,বড় বড় শহরগুলোতে সব সময়ই ট্রাফিক জ্যাম লেগেই থাকে। পরীক্ষার সময় আরো বেশি জ্যাম হতে পারে। পরীক্ষার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত পড়া নিয়ে ব্যস্ত না থাকাই ভালো। তোমার আসনে বসে নীরবে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করো। আশীর্বাদ চাও যেন,তিনি তোমার পরীক্ষা চলাকালীন তোমার সহায় হন এবং তুমি পরীক্ষায় যেন খুব ভালো করতে পারো। তোমার দেহ ও মনের দু:শ্চিন্তা এবং ক্লান্তি দূর করার জন্য বসে সচেতনভাবে এক মিনিটের মত দীর্ঘ শ্বাসপ্রশ্বাস চালিয়ে যাও। এতে তুমি স্বস্তি বোধ করবে।
পরীক্ষার সময় ঠিক মতো ও.এম.আর. ফরম পূরণ করবে। লক্ষ্য রেখো কোনো ক্রমেই যেন রোল নম্বর রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ও সেট কোড লিখতে ভুল না হয়। যদি ভুল হয়েই যায়,তবে তোমার পরীক্ষার হলে দায়িত্ব-প্রাপ্ত শিক্ষককে জানাও। সৃজনশীল উত্তর লেখার সময় যে উত্তরটি খুব ভালোভাবে উত্তর করতে পারবে সেটা প্রথমে উত্তর করো। যদি সব উত্তর লিখতে পারো তবে চেষ্টা করো ধারাবাহিকভাবে উত্তর দেওয়ার জন্য। লক্ষ্য রেখো যেন হাতের লেখা স্পষ্ট হয়। যতগুলো প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে সবগুলোর উত্তর করতে চেষ্টা করো। প্রতিটি উত্তর লেখার পর রিভিশন দিয়ে নিও। সব উত্তর লেখার পর আবার পুরো খাতা রিভিশন দিতে চেষ্টা করো। কোনোক্রমেই বিরক্তিকর বা নিষিদ্ধ কোনো কিছু ুপরীক্ষার খাতায় লিখবে না। পরীক্ষা শেষ হলে তোমার হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের নিকট তোমার উত্তরপত্র জমা দিয়ে হল থেকে বের হও। কোনোক্রমেই পরীক্ষায় কোনো অবৈধপন্থা অবলম্বন করো না। প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর খুব মনোযোগ দিয়ে অন্তত দুইবার প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়ে ঠিক করে নিও কোন কোন উত্তর তুমি লিখবে। অযথা আজেবাজে কথা না লিখে সঠিক উত্তর লিখো। বাইরে প্রশ ্নপাওয়ার গুঞ্জনকে গুরুত্ব দিবে না। পরীক্ষা আশানুরূপ না হলেও মন খারাপ করো না। পরবর্তী পরীক্ষার জন্য ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে যেও।