সৈয়দপুরে নকল ওষুধ কারখানা সীলগালা, ১ লাখ টাকা জরিমানা

 
নীলফামারীর সৈয়দপুরে সোমবার (২৯ আগস্ট) নকল পশু খাদ্য ও ওষুধ তৈরির একটি কারখানার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ ও উপকরণ ধ্বংস করে কারখানাটি সীলগালা করা হয়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে মালিক পালিয়ে গেলেও আমজাদ (২৭) ও আরমান (২১) নামে দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মালিকের ১ লাখ জরিমানা ও  কর্মচারীরা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
 
সন্দীপ কুমার বিশ্বাস নামের জনৈক ব্যক্তি সৈয়দপুর শহরের নয়াটোলা আতিয়ার কলোনি গোল চত্বর এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে নকল পশু খাদ্য ও ওষুধ তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর নেতৃত্বে থানা পুলিশ ওই নকল পশু খাদ্য ও ওষুধ কারখানায় আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কারখানার ভেতরে তিন কর্মচারী নকল পশু খাদ্য ও ওষুধ তৈরির কাজ করছিল। অভিযানকালে পুরাতন ছাদঢালাই একতলা ওই বাড়ির ৫টি কক্ষে নকল পশু খাদ্য ও ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত তরল পদার্থসহ বিপুল পরিমাণ উপকরণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
 
পরে এ সব সেখানে ফেলে দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়াও ওই  নকল কারখানায় তৈরি পশু খাদ্য ও ওষুধ  নমুনা হিসেবে জব্দ করে নিয়ে আসা হয়। এ সময় মালিক পালিয়ে গেলেও সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ এলাকার মো. আমজাদ হোসেন (২৭) ও সৈয়দপুর শহরের মিস্ত্রিপাড়া আরমান (২১) নামের কারখানার কর্মচারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
 
এ অভিযানে সৈয়দপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা  প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. মো. রফিকুল আলম প্রাণি সম্পদ বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ পুলিশ সদস্যরা  উপস্থিত ছিলেন।
 
সূত্র জানায়, ওই নকল কারখানার মালিক সন্দীপ কুমার বিশ্বাসের বাড়ি নড়াইল জেলায়। তাঁর বাবার নাম মৃত. সহদেব চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি  চাঁদ নগর এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। সৈয়দপুর পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে  'মেসার্স ম্যাক্স এগ্রোভেট' নামের ওই নকল কারখানা পরিচালনা করে আসছিল।
 
ওই নকল কারখানায় গবাদি পশুর প্রায় ৪০ প্রকার  খাদ্য ও ওষুধ তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। কারখানায় তৈরি পশু খাদ্য ও ওষুধের বক্সের গায়ে শুধু মাত্র  ম্যাক্স এগ্রোভেট, আমিনুল হেলথ ডিভিশন, বাংলাদেশ লেখা রয়েছে। আর কারখানার মালের চালানের কপিতে হেড অফিস ৬৩/এফ (তৃতীয় তলা), লেক সাকার্স, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫ এবং ডিপো অফিস চৌধুরী ভিলা, নয়াটোলা, সৈয়দপুর নীলফামারী লেখা রয়েছে।
 
ভ্রাম্যমাণ আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা করায় আটক কর্মচারীদের ছেড়ে দেয়া হয় এবং মালিকের ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী।
 
ইত্তেফাক/আরএ