ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা
মো. কবির হোসেন (সুজন)
সিনিয়র প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ
নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, ঢাকা।
প্রিয় পরীক্ষার্থীবৃন্দ, আর অল্প ক‘দিন পর এইচএসসি পরীক্ষা। সৃজনশীলে A+ পাওয়া খুবই সহজ। কিছু নিয়মনীতি সঠিকভাবে অনুসরণ করলে এবং উদ্দীপকের অর্থ ভালোভাবে বুঝতে পারলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কয়টি প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব।
উদ্দীপক হতে উত্তর বের করতে করণীয়: মনে রাখবে প্রতিটি উদ্দীপক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন নির্ভর। মানে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান নিয়ে একটি ঘটনার আলোকে উদ্দীপক তৈরী করা হয়। এতে উদ্দীপক নতুন হলেও উদ্দীপকের প্রশ্নের উত্তর তোমার পাঠ্যবইয়ের সাথে সম্পর্কিত হবে। উদ্দীপকের প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা স্তরে উদ্দীপক হতে অবশ্যই জ্ঞনমূলক প্রশ্ন কী তা নিশ্চিত হতে হবে। মনে রাখবে সৃজনশীলের প্রয়োগ স্তর যেভাবেই চিন্তা করুক না কেন উত্তর একই হতে হবে। উচ্চতর দক্ষতা স্তরের প্রশ্নে সরাসরি কোন জ্ঞানমূলক উত্তর চাওয়া না হলেও সেখানেও ঘটনার আলোকে জ্ঞানমূলক উত্তর সৃষ্টি করে নিতে হয়। যেমন যথার্থতা মূল্যায়ন কর,সাদৃশ্য খুঁজে বের কর, এটি কী যৌক্তিক, উত্তর কী সঠিক। যদি প্রশ্নটির উত্তর যৌক্তিক হয় তাহলে এর পিছনে যে কারণটি থাকে সেটি সংক্ষেপে জ্ঞানমূলক হিসাবে লেখাটাই জ্ঞানমূলক উত্তর। তবে এখানে যাই থাকুক না কেন এর বিপরীতে সরাসরি একটি জ্ঞানমূলক উত্তর আসবে তা তোমাদেরকে খুঁজে বের করে নিতে হবে। নতুবা স্তর সমূহ সাজানো অপরিপক্ক হবে।
উত্তরের ধারাবাহিকতা: তোমরা নিশ্চয় জানো, উদ্দীপকের ৪টি স্তরের প্রশ্নে আলাদা আলাদা নম্বর বিভাজন রয়েছে এবং ৪টি স্তরের প্রত্যেকটিতে আবার পৃথক পৃথক নম্বর বিভাজন রয়েছে। যেমন ক অংশে জ্ঞানমূলক স্তরে ১ নম্বরের জন্য একই প্যারায় উত্তর লিখতে হবে। কোনো প্রকার নতুবা, যেহেতু, সেহেতু, অথবা এভাবে উত্তর লেখা যাবে না। খ অংশে অনুধাবন স্তরের প্রশ্নে ২ নম্বরের জন্য জ্ঞান ও অনুধাবন দুটি প্যারা করে লিখতে হবে। একটি জ্ঞানমূলক উত্তর অপরটি এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ মাত্র। গ অংশে প্রয়োগ স্তরের প্রশ্ন ৩ নম্বরের জন্য জ্ঞান,অনুধাবন ও প্রয়োগ ৩টি প্যারা করে লিখতে হবে। প্রথম প্যারায় যে জ্ঞানমূলক উত্তর চাওয়া হয়েছে অর্থাত্ কি, কোনটি, কখন, কোথায়, যে উত্তর চাওয়া হয়েছে শুধুমাত্র সেটি লিখতে হবে। ২য় প্যারায় এই জ্ঞানমূলক উত্তরে যা লেখা হয়েছে তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে হবে। তৃতীয় প্যারায় উদ্দীপকের আলোকে কীভাবে উত্তরটি খুঁজে পেল বা কোন কোন উপকরণের আলোকে বুঝা গেল যে এর উত্তর এটি হবে ব্যাখ্যার আলোকে তা প্রমাণ করতে হবে। ঘ অংশে উচ্চতর দক্ষতা স্তরের প্রশ্নে ৪ নম্বরের জন্য জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা ৪টি প্যারা করে প্যারা গুলো ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। প্রথম প্যারায় প্রশ্নে যেভাবে চাওয়া হোক না কেন জ্ঞানমূলক উত্তর সৃষ্টি করে লিখতে হবে। ২য় প্যারায় এই জ্ঞানমূলকের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিতে হবে। তৃতীয় প্যারায় উদ্দীপকের উপমা সমূহের আলোকে যৌক্তিক না অযৌক্তিক, ইতিবাচক না নেতিবাচক ইত্যাদি প্রমাণ করতে হবে। চতুর্থ প্যারায় উচ্চতর দক্ষতার পুরো ঘটনার আলোকে নিজের বিচার বুদ্ধি প্রয়োগ করে একটি মূল্যায়ন বা মতামত উপস্থাপন করতে হবে। প্যারা করা বাধ্যতামূলক না হলেও শিক্ষার্থীদের তাদের নিজেদের প্রয়োজনে প্যারা করে অবশ্যই লিখতে হবে।
অধ্যায়ভিত্তিক করণীয়: উদ্দীপকের ঘটনা একেক জন একেক ভাবে উপস্থাপন করে থাকে। তাই এটি কমন পড়ার সম্ভাবনা একেবারে ক্ষীণ। তবে প্রতিটি অধ্যায় পড়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক প্রশ্নসমূহ নিজেরা বের করে নিবে। এই জ্ঞানমূলক প্রশ্নই দৃশ্যকল্পের কেন্দ্রবিন্দু।
নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে করণীয়: এই অংশে তিনটি স্তরের প্রশ্ন হয়ে থাকে। সাধারণ বহুনির্বাচনি, বহুপদিসমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি এবং অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি। এদের মধ্যে সাধারণ বহুনির্বাচনি থেকে বেশি প্রশ্ন থাকে এবং এই অংশ খুবই সহজ। যা জ্ঞান এবং অনুধাবনমূলক প্রশ্ন থেকে হয়। তবে এই অংশে ৪টি স্তরের পরিমাপ হলো যথাক্রমে ৪০%,৩০%,২০%ও ১০%। বহুপদি সমাপ্তিসূচক প্রশ্নসমূহ একটু জটিল। কারণ এই ধরনের প্রশ্নের একাধিক উত্তর সঠিক হয়। আর অভিন্ন তথ্যভিত্তিক প্রশ্নের ধরণ সৃজনশীল অংশের মতই। যা উদ্দীপক পড়ে নির্দেশনামূলক প্রশ্ন অনুযায়ী বিকল্প উত্তর থেকে একাধিক বিক্ষেপক হতে সঠিক উত্তর যাচাই করতে হয়। তবে নৈর্ব্যত্তিক সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য পাঠ্যবই ভালোভাবে রিডিং পড়তে হবে। তাই সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনি উভয় অংশের প্রতি তোমাদেরকে সমান গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে।
তোমাদের জন্য অনেক শুভ কামনা রইল।