যুদ্ধাপরাধীদের দোসররাও রেহাই পাবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষালম্বনকারী ও দোসররাও রেহাই পাবে না। তাদেরও একদিন জনগণ বিচার করবে। 
 
মঙ্গলবার রাজধানীতে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, যে অপরাধ করে আর যে তা মেনে নেয় তারা সমান অপরাধী। যারা যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দিয়েছে, মন্ত্রী-উপদেষ্টা বানিয়েছে সেই জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াদের কী শাস্তি হবে সেটাও এখন জাতিকে ভাবতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়ে তাদের হাতে লাখো শহীদের রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়ার অপরাধে জিয়া-খালেদা জিয়াদের প্রকাশ্য জনগণের সামনে বিচার হওয়া উচিত। এ ব্যাপারে জনগণের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনার সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
 
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষের দাবি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। আমরা বিচার করছি এবং রায় কার্যকরের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করছি। তবে এ বিচার করতে গিয়ে আমাকে অনেক হুমকি-ধামকি ও টেলিফোন পেতে হয়েছে। আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, কারো কাছে নতিস্বীকার করিনি। বঙ্গবন্ধু যে কাজটা (যুদ্ধাপরাধীদের বিচার) শুরু করেছিলেন, আমরা তা শেষ করবোই। 
 
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়কণ্ঠে বরেন, একদিন জন্মালে মরতেই হবে, সেটা আমি জানি। যতক্ষণ জীবন আছে, ততক্ষণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবো। মৃত্যুকে আমি কখনোই ভয় পাই না। বার বার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। আমার শুধু একটাই লক্ষ্য দেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত করবো। বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আমরা বৃথা যেতে দেব না। বার বার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েই আমাকে চলতে হচ্ছে। জঙ্গী-সন্ত্রাসীদের কোন ঠাঁই এদেশে হবে না। 
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার খুনিদের মদদ দিতে পারে, পুরস্কৃত করতে পারে, যারা যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী করতে পারে, পার্লামেন্টে ভোট চুরি করে খুনিদের বিরোধী দলীয় নেতা বানাতে পারে- তারা যে সব ধরনের খুনের সঙ্গে জড়িত, জঙ্গীবাদের সঙ্গে জড়িত সেটাতো আর মানুষকে দেখানোর প্রয়োজন নেই। নিহত জঙ্গীদের পরিচয় নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সন্দেহ প্রকাশ করে করা মন্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিহত জঙ্গীদের ব্যাপারে খালেদা জিয়ার এতো মায়াকান্না কেন? যখনই আমাদের আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী জঙ্গীদের খুঁজে বের করে, ব্যবস্থা নেয়, ধরতে গিয়ে অনেকে নিহত হয়। তখন নিহত জঙ্গীদের জন্য খালেদা জিয়ার এতো মায়াকান্না কোথায় থেকে আসে? নিহত জঙ্গীদের পক্ষ নিয়ে উনি বলছেন শিকড়ের সন্ধান কেন করা হচ্ছে না? তাদের কেন বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে না? বাঁচিয়ে রাখা হলে উনি কী করবেন? এসব জঙ্গীদের কী উনি পুজো করবেন?