সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই। সন্ত্রাসের উত্স কিংবা বাহক যে বা যারাই হোক না কেন, তার একটাই নাম -সন্ত্রাস। সন্ত্রাসের কোনো ভালো-মন্দ হয় না। তাই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একই অবস্থান গ্রহণ ও পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে ওয়শিংটন ও দিল্লি। ভারত সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গতকাল মঙ্গলবার দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠককালে তার ভাষণে এসব কথা বলেন। বৈঠকের পর তারা যৌথ বিবৃতি দেন।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে জন কেরি বলেন, মুম্বাই ও পাঠানকোটে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র একমত। এছাড়া ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সন্ত্রাস ইস্যুতে তথ্যের আদান-প্রদানে একমত হয়েছেন দুই দেশ। জন কেরি আরো বলেন, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে দুই দেশ পরস্পরের সহযোগিতার উপর নির্ভরশীল। বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পারস্পারিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, ভারতে বেসামরিক পারমানবিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। তাছাড়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যও বৃদ্ধি করা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০১৫ সালে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়েছে ১০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।
অন্যদিকে সুষমা স্বরাজ বলেন, আমরা সম্মত হয়েছি পাকিস্তানকে তার মাটিতে সন্ত্রাসীদের সব অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সংগঠন ভেঙে দিতে চাপ প্রয়োগে একযোগে কাজ করা হবে। ভারতের কাছে ‘বিষ ফোঁড়া’ পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ এবং অন্ধকার জগতের শীর্ষ সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কেরি এবং স্বরাজ একমত হয়েছেন বলে জানান। বৈঠকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা উচ্চারণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাকিস্তান সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যাতে কঠোর অবস্থানে যায়, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান সুষমা।
ইত্তেফাক/এএন