আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা: রায়ে ২ বিচারপতির সাক্ষর

 
জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক এমপি আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড বহালের রায়ে সাক্ষর করেছেন হাইকোর্টের দুই বিচারপতি। বৃহস্পতিবার বিকালে রায়ে সাক্ষার করেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃঞ্চা দেবনাথ। সাক্ষরের পর রায়টি সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপরই প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
 
গত ১৫ জুন হাইকোর্ট এক রায়ে আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেয়া ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। এরা হলেন, বিএনপির যুবদলের তত্কালীন কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল ইসলাম সরকার, নুরুল ইসলাম দিপু (পলাতক), মাহাবুবুর রহমান মাহবুব, শহিদুল ইসলাম সিপু, হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ ও সোহাগ ওরফে সরু। এছাড়া বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির দণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এরা হলেন, মোহাম্মদ আলী, সৈয়দ আহমেদ মজনু (পলাতক), আনোয়ার হোসেন আনু (পলাতক), রতন মিয়া ওরফে বড় রতন, কাশেম মাতবরের ছেলে জাহাঙ্গীর (পলাতক), মশিউর রহমান মশু (পলাতক) ও আবু ছালাম। নিন্ম আদালতে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত নুরুল আমীনের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। খালাস পেয়েছেন ১১ আসামি। এদের মধ্যে আসামি আমীর, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, মেহের আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর, ফয়সাল (পলাতক), লোকমান হোসেন বুলু, রনি ফকির (পলাতক), খোকন (পলাতক) ও দুলাল মিয়াকে বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলো। এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত রকিবউদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু সরকার, আয়ুব আলী ও মনিরকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃঞ্চা দেবনাথের ডিভিশন বেঞ্চ এ এ রায় ঘোষণা করেন।
 
তত্কালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২০০৪ সালের ৭ মে নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারকে। ঘটনার পরদিন তার ভাই মতিউর রহমান বাদী হয়ে টঙ্গী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ২০০৪ সালের ১০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে এ হত্যা মামলায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। 
 
ইত্তেফাক/এএম।