জার্মান বিশ্বকাপ দুর্নীতি

বেকেনাবাওয়ারের বিরুদ্ধে সুইস তদন্ত

২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দুর্নীতির অভিযোগে গত মার্চে  জার্মান কিংবদন্তি ফ্র্যাঞ্জ বেকেনবাওয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এবার তার দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ  তদন্ত শুরু করলো সুইস প্রসিকিউটাররাও। 
 
‘দার স্পেইগেল’- নামের একটি জার্মান সাময়িকী গত মঙ্গলবার তাদের এক রিপোর্টে জানিয়েছিল সংবাদটি। বৃহস্পতিবার সুইস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সুইজারল্যান্ড অ্যাটর্নি জেনারেলের এক মুখপাত্র বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষ থেকে আমি ফ্র্যাঞ্জ বেকেনবাওয়ার দুর্নীতি বিষয়ক তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করছি।’
 
জুলাই, ২০০০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১২-১১ ভোটে পরাজিত করে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক হয় জার্মানি। তখন বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির সভাপতি ছিলেন বেকেনবাওয়ার। পরে দেশটির বিরুদ্ধে ভোট কেনাসহ বিপুল পরিমাণ অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়। 
 
কিছু ‘ভুল’- এর কথা স্বীকার করলেও অর্থ দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগটি বারবার অস্বীকার করে আসছেন বেকেনবাওয়ার। গত বছর অক্টোবরে জার্মান কিংবদন্তি বলেছিলেন, ‘এটা সত্য যে, যাদেরকে জড়িয়ে অভিযোগটি আনা হয়েছে; তারা ফিফার আর্থিক কমিশনের কাছ থেকে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন। এটা করা হয়েছিল ফিফার কাছ থেকে ভর্তুকি পাবার জন্য। আজকের অবস্থা বিবেচনায় কাজটি ঠিক হয়নি। আয়োজক কমিটির সভাপতি হিসেবে আমি ভুলটির দায় নিচ্ছি। কিন্তু ভোট কেনার জন্য কাউকে কোন টাকা দেয়া হয়নি।’
 
চলতি বছরের মার্চে বেকেনবাওয়াসহ ছয়জনের জার্মান ফুটবল প্রশাসকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল ফিফা এথিকস কমিটি। গত মঙ্গলবার স্পেইগেল জানায়, ২০০২-০৫ সাল পর্যন্ত প্রায় এক কোটি সুইস ফ্রাঙ্ক অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের সংক্রান্ত নতুন তদন্ত শুরু করে সুইজারল্যান্ড কর্তৃপক্ষ। 
 
তবে অনুসন্ধানের বিস্তারিত কিছু এখনো জানা যায়নি। এমনকি বেকেনবাওয়ারসহ কতজন ফুটবল কর্মকর্তা সুইস তদন্তের আওতাধীন সেটাও নয়। খুব শীঘ্রই হয়তো বিস্তারিত তথ্য জানাবে সুইস কর্তৃপক্ষ।-বিবিসি
 
ইত্তেফাক/এসএসএ