ঘরে বাইরে সমকাজে সমঅধিকার ও সমমর্যাদা থাকতে হবে। এ জন্যে সমাজে লিঙ্গভিত্তিক যে শ্রম বিভাজন রয়েছে তার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে ঘরে বাইরে পরিবার-কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি স্থানে নারীর জন্য নিরাপদ ও নির্যাতনমুক্ত ও নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানান নারী শ্রমিক সম্মেলনে বক্তারা।
শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অব বাংলাদেশ (সিবিসিবি) সেন্টারে ‘নারী শ্রমিক সম্মেলনে’ বক্তারা এসব কথা বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রধান নির্বাহী ও পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট ‘আমরাই পারি’র চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল এ কথা বলেন। আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট ও জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট ‘আমরাই পারি’র চেয়ারপারসন ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, নারীদের কেবল বাইরের কাজে সমঅধিকার দিলেই চলবে না, তাদের ঘরের কাজেও সমতাভিত্তিক অধিকার দিতে হবে। এজন্য লিঙ্গভিত্তিক শ্রম বিভাজনের পরিবর্তন দরকার। আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় কিছু-কিছু কাজ নারীদের জন্য বিপজ্জনক ভাবা হয়। এজন্য নারীদের দূরে কাজে যেতে দেওয়া হয় না। এর কারণ ওই নারী যদি দূরে কাজে যান, তাহলে ঘরের কাজ করবে কে, সন্তান লালন-পালন করবে কে, এসব কারণে দূরের কাজকে নারীর জন্যে বিপজ্জনক ভাবা হয়।
সুলতানা কামাল বলেন, একজন পুরুষ শ্রমিক যে অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে সমাজে বেঁচে থাকেন, নারীদেরও সেই একই অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যেন নির্যাতনমুক্ত, সহিংসতামুক্ত জীবনযাপন করতে পারি সেই মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার বলেন, শিল্প কারখানা বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারী শ্রমিকদের ৪ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান এর ব্যতয় ঘটাবে, আমাদের জানালে আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।
শ্রম সচিব বলেন, প্রত্যেক কারখানার মালিকদের নির্দেশ দেওয়া আছে নারী শ্রমিকদের ৪ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি দিতে হবে। ছুটি শুরু হওয়ার আগের মাসে যে হারে বেতন পেতেন, সেই হারেই ছুটিভোগকালীন সময়ে বেতন দিতে হবে। এটা আইনদ্বারা বিধিবদ্ধ।
নারী শ্রমিক সম্মেলনে মোহাম্মদপুর এলাকার শত শত নারী শ্রমিকরা সম-কাজের, সম-মুজুরি দাবি করে শ্লোগান দিতে থাকেন। একই সঙ্গে নারী শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ চান তারা। আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, খুব কম সংখ্যক শ্রমিক রয়েছেন যারা ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং ট্রেড ইউনিয়ন সব শ্রমিকদের জন্য কী ধরণের সুরক্ষা দিতে পারে সেই তথ্যও মাঠ পর্যায়ে অপ্রতুল। এছাড়া অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে আয়মূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নারীদের ট্রেড ইউনিয়নে যুক্ত হবার সুযোগ খুবই কমই দেখা যায়। যারা যুক্ত আছেন তাদের বেশিরভাগই গার্মেন্ট শ্রমিক, ইপিজেড কিংবা কারখানার শ্রমিক।
সম্মেলনে নারী শ্রমিক নেত্রী হুমাইরা বেগমের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়িন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এম বি আখতার, মোহাম্মদপুর এলাকার ট্রেড ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করেন আয়শা ইসলাম। নারী শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, গামের্ন্টস শ্রমিক তাসলিমা বেগম, ও গৃহশ্রমিক জোসনা আক্তার।
ইত্তেফাক/এমআই