বিশ্ববাসীর নিকট ঢাকাকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ও আকর্ষণীয়ভাবে ব্র্যান্ডিং করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার দিনব্যাপী ইস্কাটনের বিয়াম অডিটোরিয়ামে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্র্যান্ডিং কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনজুরুর রহমান বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও পর্যটন শিল্পের প্রসারের প্রেক্ষিতে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা জেলাকে ব্র্যান্ডিং করার কোন বিকল্প নেই।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি এন এম জিয়াউল আলম , সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক দেশের প্রত্যেক জেলার শিল্প, সংস্কৃতি ঐতিহ্য ও পর্যটনকে তুলে ধরতে আলাদাভাবে ব্র্যান্ডিং করার জন্য একটি ব্যাপক কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দিন আহমেদ বলেন, ঢাকা জেলার যথাযথ ব্র্যান্ডিং এর মাধ্যমে রাজধানী শহর পরিচিতির বাইরে এটি দেশী বিদেশী পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত করানো সম্ভব।
ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে ঢাকা জেলাকে সিঙ্গাপুরের মত আকর্ষণীয় বসবাসযোগ্য ও পর্যটন নগরীতে পরিণত করা সম্ভব। সে লক্ষ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসন কর্তৃক বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী সংস্থার সমন্বয়ে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববাসীর কাছে ঢাকাকে গ্রহণযোগ্য ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে, ঢাকা জেলার জন্য একটি সুন্দর লোগো ও থিম তৈরির উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা আহবান করা হয়েছিল।
কর্মশালায় প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রেরিত সেরা লোগো ও থিম চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করার জন্য প্রাপ্ত কয়েকশত লোগো ও ট্যাগলাইন থেকে প্রাথমিকভাবে তিনটি করে লোগো ও ট্যাগলাইন বিচারকমণ্ডলী কর্তৃক আজ প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত করা হয়। বিচারকমন্ডলী ও কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত লোগো ও ট্যাগলাইন প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন শেষে চূড়ান্তভাবে একটি লোগো ও ট্যাগলাইন নির্বাচন করা হবে।
কর্মশালায় বিভিন্ন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে দলগত নির্ধারিত বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এবং প্রতিযোগিতার বিচারক মণ্ডলীর দায়িত্ব পালন করেন শিল্পী হাশেম খান, প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ডঃ সুফী মুস্তাফিজুর রহমান, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ডঃ গোলাম রাব্বানী, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ডঃ আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন নেসার হোসেন, শিল্পী অধ্যাপক সমরজিত রায় চৌধুরী, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আব্দুল মোবিন চৌধুরী, ব্যারিস্টার হামিদুল মিজবাহ প্রমুখ। কর্মশালায় শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, শিল্পী,সরকারী কর্মকর্তা, আইনজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম ব্যাক্তিত্বগণ উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/এসএসএ