আসমা বেগম। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বালুয়াহাট এলাকার মহসীন আলীর মেয়ে। ছয় বছর আগে আছমার বিয়ে হয়েছিল পার্শ্ববর্তী জেলা গাইবান্ধার সাঘাটায়। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পেরে আছমার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এক সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে ভীষণ কষ্টে দিন পার করছিলেন। অবশেষে উপজেলা সোনাতলায় বিজিএমইএ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে ঢাকা সাভারে একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে অপারেটর পদে চাকরি নেন। প্রতিমাসে সে ১২ হাজার টাকা বেতন পান। এতেই তাদের সংসারে সচ্ছলতা এসেছে।
আসমা বেগমের মত ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, অসচ্ছল পরিবারের মেয়েদের পাশাপাশি বেকার পুরুষ যুবকরাও নিজের পায়ে দাঁড়াতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ২০১২ সালে স্থাপিত সোনাতলা বিজিএমইএ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ পর্যন্ত এক হাজার ২২৫ জন নারী, পুরুষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এর মধ্যে ছয়’শ জনকে ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন গার্মেন্টসে চাকরির ব্যবস্থা করেছেন।
বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান এলাকার বেকার ও অসচ্ছল নারী পুরুষদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২০১২ সালে বিজিএমইএ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্কিল ফর ইমপ্লয়মেন্ট এন্ড ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সিপ) ও বিজিএমইএ’র যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি দুই মাসব্যাপী তাদের নতুন ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণে ১৮-৩৫ বছর বয়সী ১২০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিয়েছে। এদের মধ্যে ৯০ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ। প্রশিক্ষণে সকল সরঞ্জামাদি প্রকল্প থেকে বহন করা হয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেটের পাশাপাশি ছয় হাজার ২৪০ টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে একজন তত্ত্বাবধায়ক ও আট জন প্রশিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজিএমইএ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মুনজুর রহমান বলেন, প্রশিক্ষণ নিতে অনেকেই আসছেন। পর্যায়ক্রমে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেটের পাশাপাশি চাকরিরও ব্যবস্থা করা হয়।
ইত্তেফাক/এএন