আগৈলঝাড়া-গৌরনদী-পয়সারহাট মহাসড়কের বেহাল অবস্থা

আগৈলঝাড়া-গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ নানা সময়ে মহাসড়কটি জোড়াতালি দিয়ে কাজ করলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না।
 
সওজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদের তত্কালীন চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র প্রচেষ্টায় গৌরনদী-আগৈলঝাড়া-গোপালগঞ্জ সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করা হয়। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে প্রকল্পটির বরাদ্দ বাতিল করে। ফলে মহাসড়কের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। মহাজোট সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এসে ২০০৯ সালে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে। এডিপি’র অর্থায়নে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১টি কালভার্টসহ গৌরনদী থেকে আগৈলঝাড়া সদর পর্যন্ত ৮.২০ কিলোমিটার মহাসড়কের নির্মাণ কার্যাদেশ দেওয়া হয় বরিশালের ওটিবিএল নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে।
 
অন্যদিকে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি কালভার্ট ও ১টি ব্রিজসহ আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর থেকে পয়সারহাট পর্যন্ত ৭.৬ কিলোমিটার মহাসড়কের অপর অংশের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ফরিদপুরের সেংগুইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২৬ ফুট প্রস্থের সড়ক, চওড়ার উভয় পাশে ৩ ফুট করে ফুটপাত, সড়কে ৮টি কালভার্ট, ১টি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ওই দুই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।
 
কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দু’টি বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে দু’দফায় সময় বাড়িয়ে ২০১৪ সালে মহাসড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করে। কিন্তু নিম্নমানের কাজ ও মহাসড়কে ঢাল না দেওয়ায় দু’বছর না যেতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে বড় গর্ত আর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। সমপ্রতি বর্ষা মৌসুমে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পার্শ্ব ধসে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
 
এ ব্যাপারে সওজ উপ-সহকারী প্রকৌশলী এমএম হানিফ বলেন, মহাসড়কের কাজ ২০১৪ সালে শেষ হয়েছে। বর্ষণের ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত বা কার্পেটিং উঠে যেতে পারে। তবে আমরা সাথে-সাথে তা সংস্কার করে দিচ্ছি।
 
 
ইত্তেফাক/এএন