রংপুরের পীরগঞ্জে চুরির অপবাদে দুই শিশুকে ইউপি মেম্বারের নির্দেশে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে দেড়শ’ টাকার স্ট্যাম্পে ওই দুই শিশুর অভিভাবকদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
জানা যায়, উপজেলার বড়আলমপুর ইউনিয়নের বড়আলমপুর গ্রামের সন্ন্যাসির বাজার এলাকার সুমন মিয়ার মুদি দোকানে গত শনিবার দিবাগত রাতে চুরি হয়। এ ঘটনায় ওই ইউনিয়নের ষোলঘরিয়া গ্রামের শাহানুর মিয়ার পুত্র শাফিকুলকে (১২) আটক করা হয় এবং আবু সাঈদ মিয়ার পুত্র আদম মিয়া (১০) পালিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় ইউপি মেম্বার মাহফুজার রহমান, গ্রাম পুলিশ সদস্য শাম মুর্মু দাস ও শফিকুল ইসলাম সন্ন্যাসির বাজারের একটি কাঁঠাল গাছের সঙ্গে আটক শিশু শাফিকুলকে বেঁধে তার উপর নির্যাতন চালায় এবং গ্রাম পুলিশরা তাকে গাছে বাঁধা অবস্থায় রাতভর পাহারা দিয়ে রাখে। গতকাল সকালে পালিয়ে যাওয়া শিশু আদমকে ধরে নিয়ে এসে তাকেও শাফিকুলের সঙ্গে ওই গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। মুদি দোকানদার সুমন মিয়া বলেন, আমার দোকানে চুরির সময় শাফিকুলকে হাতেনাতে আটক করি। পরে ইউপি মেম্বার মাহফুজার রহমানকে বলার পর তিনি গ্রাম পুলিশ নিয়ে আসেন। এই দুই শিশু প্রায় পাঁচ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
বড়আলমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, বিষয়টি শোনার পর শিশু দুইটিকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আনার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে নিয়ে আসা হয়নি। শুনেছি, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার মাহফুজার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি লাঠি হাতে নিয়ে শিশু দুটিকে মারার মতো করে ভয় দেখিয়েছি। তাদের কোন মারপিট করিনি। পরে সবার উপস্থিতিতে দেড়শ’ টাকার ষ্ট্যাম্পে শিশু দুটির অভিভাবকদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছি। পীরগঞ্জ থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, আমার কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এএন