বিস্ফোরণে দগ্ধ কুবির ছাত্রী নিশা মারা গেছে

কুমিল্লায় মেসে বিস্ফোরণে দগ্ধ ছাত্রী ফাহমিদা হাসান নিশা চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল রবিবার দিবাগত গভীর রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রীর মৃত্যু হয়।
 
সোমবার সকালে কুবির রেজিস্ট্রার মজিবুর রহমান মজুমদার নিশার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিশা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের সচিব ও ওই উপজেলার আসকিনা গ্রামের আবু হাসানের মেয়ে।
 
গত ২৩ আগস্ট ভোরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সালমানপুর এলাকায় ‘প্রশান্তি’ (মেস) নামের বাসার নীচতলার একটি কক্ষে বিকট বিস্ফোরণে নিশা দগ্ধ হন। বিস্ফোরণে ওই ভবনের  জানালার গ্রিল পর্যন্ত উড়ে যায়। রহস্যজনক ওই বিস্ফোরণে নিশার শ্বাসনালীসহ শরীরের প্রায় ৬৫ ভাগ দগ্ধ হয়েছিল। পরদিন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই শহীদুল বাশার বাদী হয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনসহ তিন ছাত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। তারা হলেন- কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুন্নাহার, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মর্জিনা আক্তার এবং দগ্ধ ছাত্রী অর্থনীতি দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ফাহমিদা হাসান নিশা। মামলা দায়েরের পর নিশাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল এবং সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পুলিশের পাহারায় চিকিত্সাধীন ছিল। এদিকে এ মামলায় গ্রেফতারকৃত অপর দুই ছাত্রী নুরুন্নাহার ও মর্জিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছে। ওই তিন ছাত্রী ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়।
 
কুমিল্লার পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন বলেন, ‘মামলাটি উচ্চতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ পাঠানো হবে। বিস্ফোরণটি কোন কারণে ও কি দাহ্য পদার্থের কারণে হয়েছিল এমন প্রশ্নে তিনি জানান, আলামতগুলো পরীক্ষাধীন আছে। পরীক্ষার শেষেই বলা যাবে এটা কি কারণে ও কোন দাহ্য পদার্থের বিস্ফোরণ।
 
নিশার মামা তারিকুল ইসলাম জানান, আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিশার মরদেহ সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার আসকিনা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
 
 
ইত্তেফাক/এএন