কুড়িগ্রামের রাজারহাটে নদী ভাঙন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় আকস্মিকভাবে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তৈয়বখা, চতুরা, রতি, হংশধর, মন্দির ও পাড়ামৌলা গ্রামের শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ডাংরারহাট ও পাড়ামৌলা গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার এখন চরম উত্কণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। এদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামতের কাজে ব্যাপক অনিয়মের কারণে ব্লক, বালুর বস্তা, কার্পেটিং ধসে নদীতে বিলীন হওয়ায় বাঁধটি হুমকির মুখে রয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তিন বছর এ কাজ তাদের পর্যবেক্ষণে থাকবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তৈয়বখা ডাংরারহাট তৈয়বখা, চতুরা, রতি, হংশধর, মন্দির ও পাড়ামৌলা গ্রামে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ওইসব এলাকার সহস্রাধিক পরিবার চরম উত্কণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। হুমকির মুখে রয়েছে ডাংরারহাট আজিজিয়া আলীম মাদ্রাসা, ডাংরারহাট উচ্চ বিদ্যালয়, হাফিজিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা, নুরানী মাদ্রাসা, বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, রতিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, কালিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাংরারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাঝাপাড়া বালিকা মাদরাসা, বিদ্যানন্দ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দির, বেড়িবাঁধ ও ডাংরারহাট হয়ে রাজারহাট পাকা সড়ক।
গত দু’দিনে তৈয়বখা গ্রামের আঃ গনি, আঃ হাই, মোস্তফা, ফজলউদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, আঃ কাদের, মমিনুল ইসলাম, ইউনুছ আলী, নছিরউদ্দিন, আইনুল ইসলাম, ইছাহাক, আবুল হোসেন, আবু বক্কর, হক্কানী, আবুল কাশেম, নুরজামাল, হংসধর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম, ওসমান আলী, গোপাল চন্দ্র, রমেশ চন্দ্র, আঃ রাজ্জাক, মনভোলা, নুর ইসলাম, নুর আলম, উকিলউদ্দিন, ননী গোপাল, আলমগীর, কার্তিক চন্দ্র, নিশিকান্ত, যাংরার হাট গ্রামের মনতাজ আলী, রাবেয়া বেগম, রফিকুল ইসলামের বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া তৈয়বখা গ্রামের আমিনুল ইসলাম, নুরুল হক জানান, তারা পাঁচবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। চতুরা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, জহর আলী, আব্দুল হাই জানান, সব হারিয়ে শেষ সম্বল জমিটুকুতেই বাড়ি করে আছি। এ জমি গেলে আর কোনো উপায় থাকবে না।
ভাঙন রোধে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড ডাংরারহাট বাঁধ হয়ে মন্দির আদর্শ গ্রাম পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার চার কোটি ২৪ লাখ ২৩ টাকা ব্যয়ে এবং ৬নং ক্রশবাঁধটি এক কোটি ৩৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানতে পেরেছি কিন্তু অন্য উপজেলায় অবস্থান করায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারিনি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হাসেম জানান, ভাঙন ঠেকাতে আরো ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে জলবায়ু প্রকল্পের কাজ আগামীতে শুরু হবে।
ইত্তেফাক/এএন