চট্টগ্রামে অধিকাংশ ভবনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই

চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম এলাকা জামালখান। এখানকার একটি সাততলা ভবনে আছে একটি  ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ওই ভবনের অন্য সব ফ্লোরেও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ভবনটিতে আসা লোকজনের জন্য গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থাই নেই। ভবনের বেজমেন্ট ব্যবহার হচ্ছে গুদাম হিসেবে। ফলে ওই ভবনে আসা লোকেরা ভবনের সামনের রাস্তায় গাড়ি পার্ক করেন।        এতে জামালখান সড়কে নিত্যদিন যানজট লেগে থাকে।
 
মেহেদীবাগের ন্যাশনাল হাসপাতাল ভবনের নীচে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও পর্যাপ্ত স্থান নেই। ফলে হাসপাতালের সামনেই গাড়ি পার্ক করতে হয়। এতে যানজট তৈরি হয় গোলপাহাড় থেকে কাজীর দেউড়ী পর্যন্ত। আবার ওই এলাকায় আরো কয়েকটি হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় যানবাহনের চাপে যানজট এতটাই প্রকট হয় যে যাত্রীরা একে ‘নরক যন্ত্রণা’ বলেই অভিহিত করছেন।
 
শুধু এই দুটি ভবন নয়; বন্দর নগরীর অর্ধেকেরও বেশি ভবনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। চট্টগ্রাম মহানগর ইমারত বিধিমালা-২০০৮ অনুযায়ী, নকশার ধরনের ওপর নির্ভর করে সব ধরনের ভবনে নির্দিষ্ট জায়গায় গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই নির্দেশ মানছেন না অধিকাংশ ভবন মালিক। তারা পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান, গুদামসহ বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। আবার কেউ কেউ বিধিমালা মানলেও তা পুরোপুরি মানেন না। অর্থাত্ যতটুকু পার্কিংয়ের জায়গা থাকা দরকার তা থাকে না। এসব কারণে বাধ্য হয়েই ভবন ব্যবহারকারীরা ভবনের সামনের রাস্তা, ফুটপাতে গাড়ি পার্ক করেন। আর এতে সড়কের সামনের রাস্তায় তীব্র যানজট হয়।
 
ইমারত বিধিমালা বাস্তবায়নের দায়িত্ব চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ)। মূলত ভবন নির্মাণের সময় তাদের যথাযথ তদারকির অভাবেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও সংস্থাটির চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম জানিয়েছেন, যারা ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
 
সিডিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খিন ওয়ান নু ইত্তেফাককে জানান, ‘যে সব ভবনে পার্কিং নেই, কিংবা পার্কিংয়ের অবৈধ ব্যবহার হচ্ছে, সেগুলো শনাক্ত করতে নগরীকে ১৯ ভাগে ভাগ করে জরিপ করছে সিডিএ। জরিপ শেষ হলেই এসব ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে যে সব ভবনের জরিপ শেষ হয়েছে, সেগুলোর মালিকদের স্ব-উদ্যোগে বেজমেন্ট খালি করতে নোটিস দেওয়া শুরু হয়েছে। যারা খালি করবে না তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নিয়ে সিডিএ বেজমেন্টের অংশ ভেঙে দেবে।’
 
তবে তদারক সংস্থা সিডিএ এখনো জরিপ কাজে ব্যস্ত থাকলেও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে একটি জরিপ করেছেন। তাদের করা জরিপে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের ৬০ শতাংশ আবাসিক ও বাণিজ্যিক বহুতল ভবনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। ওসব ভবনের পার্কিংয়ের জায়গায় নানা রকমের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
 
সরেজমিনে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ, জামালখান, চকবাজার, মেহেদীবাগ, প্রবর্তক, জিইসিসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পার্কিং না থাকা ভবনগুলোর সামনে সারি সারি করে গাড়ি রাখা। আর ওইসব ভবনের বেজমেন্ট ব্যবহার হচ্ছে বাণিজ্যিক কাজে। জামালখান এলাকায় ইতোমধ্যে জরিপ সম্পন্ন করেছে সিডিএ। সেখানে দেখা গেছে, ৪০টি ভবনের মধ্যে ২৪টি ভবনেই কোনো পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই।
 
নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোওয়ার মজুমদার মনে করেন, ভবন নির্মাণের পর ব্যবহার সনদপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও ভবন মালিকরা তা নেন না। এ কারণে নকশা ও ব্যবহার পরিবর্তন ঠেকানো যাচ্ছে না। এ জন্য সিডিএ’র জোরালো উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
 
নিউমার্কেট এলাকার একটি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথী চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘পুরো নগরী এখন যানজটে স্থবির। মানুষ সড়কে নরক যন্ত্রণা ভোগ করছে। তার উপর ভবনগুলোর সামনে গাড়ি রাখায় যানজট আরো বাড়ছে।’
 
 

ইত্তেফাক/এএন