চলবিলের আত্রাই, গুমানীসহ কয়েকটি নদী ও এর সংযোগ নালাগুলোর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে অবৈধ সুতি জাল পেতে অবাধে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এসব সুতি জালে ছোট-বড় নানা প্রজাতির মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ছে।
তবে মাঝে-মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুতি জাল উচ্ছেদে অভিযান চালানো হলেও পরে আবার প্রভাবশালীরা সুতি জাল পেতে মাছ শিকার করছে।
জানা গেছে, আত্রাই নদের (সাবগাড়ী নালা) ও সাবগাড়ী বাজার থেকে রাবারড্যামের ভাটিতে প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে সাতটি সুতি জাল পাতা হয়েছে। নদীটির এপার-ওপার বরাবর বাঁশ ও তালাই দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। মাঝে ফাঁকা রাখা হয়েছে। সেখানেই পাতা হয় জাল। ২০ মিনিট থেকে ৪০ মিনিট পর পর সেসব জাল তুলে সংগ্রহ করা হয় মাছ। এ ছাড়া তাড়াশের ধামাইচ ও কুন্দোইলের গুমানী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েকটি সুতি জাল পাতা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন গড়ে একটি সুতি জাল থেকে পাঁচ থেকে আট মণ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। এসব মাছের দাম কমপক্ষে ছয় লাখ টাকা। গত প্রায় দেড় মাস ধরে চলছে এ পন্থায় মাছ শিকার। সরকারি দলের কতিপয় প্রভাবশালী নেতার ছত্রচ্ছায়ায় গুরুদাসপুরের সাবগাড়ি এলাকার মান্নান, রমিজুল করিম, সানোয়ার মেম্বার, দুলার, ফারুক, ফয়জাল মিস্ত্রিসহ প্রায় ৪০ জনের একটি দল ওই নদীতে চারটি এবং রাবারড্যাম সংলগ্ন থেকে ভাটিতে তিনটি পয়েন্টে রবি ও কাজীমুদ্দিন সুতি জাল পেতে মাছ শিকার করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইয়াসমিন আক্তার জানান, তিন দফা সুতি জাল উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোবারক হোসেন সুতি জাল উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছেন। তবে নৌকা-লোকবল নিয়ে সুতির বাঁশ খুঁটি তুলে আনার পর আবারও তারা জালপাতে, মাছ শিকার করে। ঘটনাস্থলে গেলে সুতি জালের সাথে জড়িতরা গা-ঢাকা দেয়। তবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করার অভিযোগটি সত্য নয়।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মত্স্য কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, তাদের দপ্তরে জনবল সংকট ও অভিযান চালানোর জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় এসব সমস্যা নিরসন সম্ভব হয় না। তারপরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলী বলেন, তার দলের সক্রিয় কোনো নেতা-কর্মীরা এসব অবৈধ কাজের সাথে জড়িত নেই।
ইত্তেফাক/এএন