আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২০ শতাংশ

 
গত জুলাইয়ে কমলেও আগস্টে এক লাফে রপ্তানি আয় বেড়েছে পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ। সব মিলিয়ে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে আট শতাংশ। তবে প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি না বেড়ে উল্টো তিন শতাংশ কমেছিল। ফলে আগস্টের রপ্তানি আয়ে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা সত্ত্বেও দুই মাসের সম্মিলিত রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। দুই মাসে ৬২১ কোটি মার্কিন ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫৮৪ কোটি ডলার। অর্থাত্ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয় কম হয়েছে ছয় শতাংশ। অবশ্য পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৫৩৮ কোটি ডলার।
 
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে বিভিন্ন পণ্য রফতানি থেকে আয় এসেছে ৩৩০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। আগের বছরের আগস্টে এ পরিমাণ ছিল ২৭৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। আলোচ্য সময়ে প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় বেড়েছে  ৮ শতাংশ। মোট আয় এসেছে ৪৮৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে নিটওয়্যার পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ২৪৭ কোটি ডলার। ওভেন থেকে এসেছে ২৩৭ কোটি ডলার।
 
রপ্তানি আয় বাড়ার এ প্রবণতা সরকারেও স্বস্তি এনেছে। কেননা গুলশান হামলার পর রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া কারো কারো মধ্যে উদ্বেগ ছিল। তবে সোমবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আগস্টে ২০ শতাংশ রপ্তানি বৃদ্ধির ঘটনা প্রমাণ করে, দেশে জঙ্গি হামলা রপ্তানিতে কোনো বাধা হয়ে সৃষ্টি করতে পারেনি। তিনি বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজান রোস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা ছিল টার্গেট কিলিং। বিদেশি নাগরিকদের হত্যার মাধ্যমে রপ্তানি খাতকে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছিল। তবে রপ্তানিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি।
 
পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি আয় বেড়েছে এমন উল্লেখযোগ্য খাত হলো— চিংড়িসহ হিমায়িত খাদ্য ২১ শতাংশ, কাঁচাপাটসহ সব ধরনের পাটপণ্য ৫ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ১৫ শতাংশ, ওষুধ ৬ শতাংশ। তবে সিরামিক, কৃষিজ পণ্য, জাহাজ,  ফার্নিচারসহ বেশ কিছু পণ্যের রপ্তানি আয় আলোচ্য সময়ে কমেছে।