শিশু নার্গিস আক্তার এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ওসিসিতে। প্রতিদিনই কোনো একটি ছুঁতোয় নির্যাতন করা হতো তাকে। তার চাচী লতিফা ইয়াসমিন লুনা তাকে দিয়ে বাসার অনেক কাজ করাতেন। এসব কাজ করতে না পারলে তাকে রুটি বানানোর বেলুন, লাঠি, জুতো দিয়ে পেটাতেন। তাকে ইস্ত্রি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার ঘটনাও ঘটিয়েছেন তার চাচী লতিফা ইয়াসমিন লুনা। মারপিটের কারণে সে বাসা থেকে পালাতেও চেয়েছিল বলে জানিয়েছে শিশু নার্গিস। নার্গিস এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ওসিসিতে চিকিত্সাধীন। এদিকে তার বাবা আব্দুস সামাদ বাদি হয়ে মামলা করেছেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে চকলেট চুরি করে খাওয়ায় তার চাচী তাকে মারধর করেন। তখন সে বাসা থেকে পালিয়ে রাস্তায় গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করে।
হাসপাতালে শিশু নার্গিস জানায়, তার বাড়ি গোপালগঞ্জে। তার বাবার নাম আব্দুস সামাদ ও মায়ের নাম তামান্না বেগম। তার বাবা-মায়ের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। এ জন্য তার বাবা তাকে মিরপুরে তার চাচার বাসায় পাঠিয়ে দেন। মিরপুরের শাহ আলীবাগ এলাকার ৭৫/২ নম্বর বাসার তৃতীয় তলায় তারা থাকে। ওই বাসায় নার্গিসের সমবয়সী দুই চাচাতো ভাই-বোন রয়েছে। নার্গিস অভিযোগ করে জানায়, চাচী তাকে দিয়ে ঘর মোছা, বাথরুমের পানি ধরা, ময়লা ফেলানো, কাপড় ধোয়াসহ রান্নাবান্নায় সহযোগিতার কাজ করাতেন। এসব কাজে সামান্য ভুল হলে তাকে নানাভাবে মারধর করা হত। গরম খুন্তি, ইস্ত্রি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতন করা হত। গত মঙ্গলবার সে তার চাচাতো ভাই-বোনের কাছ থেকে পড়ে যাওয়া একটি চকলেট খেয়ে ফেললে তার চাচী সেটা দেখে ফেলেন। এরপর লুনা তাকে রুটি বানানোর বেলুন দিয়ে পেটান। সে চিত্কার করে কান্না শুরু করলে তাকে ইস্ত্রি দিয়ে গায়ে ছ্যাঁকা দেন এবং ব্যাপক মারধর করেন। মার খেয়ে নার্গিস বাসা থেকে পালিয়ে বাসার নিচে গিয়ে কান্নাকাটি করে। সে সময় স্থানীয়রা তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখে ঘটনা জানতে চায়। তখন সে সব ঘটনা খুলে বলে স্থানীয়দের। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করে।
মিরপুর থানার ওসি ভুঁইয়া মাহবুবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, শিশু নার্গিসের সমস্ত শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে পুড়ে যাওয়া ক্ষত রয়েছে। গত দুই-তিন মাস শিশুটিকে নিয়মিত মারপিট করে নির্যাতন করা হয়েছে। তার শরীর দেখলেই সেটা স্পষ্ট বোঝা যায়। ওসি আরো বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আব্দুস সালাম বাদি হয়ে মামলা করেছেন। এই মামলায় লতিফা ইয়াসমিন লুনা ও তার স্বামী শাহীন মুন্সিকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার লতিফা ইয়াসমিন লুনাকে আদালতে নেওয়া হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেন।
ইত্তেফাক/এএন