রংপুরে কোরবানির পশুর মার্কেটে রেকর্ড সরবরাহ

উদবৃত্ত উৎপাদন ও ব্যাপক সরবরাহ সত্ত্বেও ঈদুল আযহার চারদিন আগে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন পশু মার্কেটে তুলনামূলক চড়া দামেই পশু বিক্রি শীর্ষ অবস্থানে পৌঁঁছেছে।
 
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশুপালন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সুবাদে পশু মার্কেটে স্থানীয় ভাবে ব্যাপক সরবরাহ লক্ষ্য করা গেছে। পশু মার্কেট সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্রেতারা কোরবানির পশু হিসেবে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা এবং আমদানিকৃত গরুর চেয়ে স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা তরতাজা ও স্বাস্থ্য সম্মত গরু পছন্দ করছেন।
 
প্রাণীসম্পদ বিভাগের বিভাগীয় উপ পরিচালক স্বপন কুমার পাল বলেন, চলতি মৌসুমে বিভাগের আট জেলায় চাহিদা ৬ লাখ ৩০ হাজারের বিপরীতে কোরবানির পশুর সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৬৫ হাজার।
 
তিনি বলেন, কোরবানির জন্য স্থানীয় চাহিদা মেটাতে পশু আমদানির প্রয়োজন নেই। পশু বিক্রেতারা জানান, গরুর ব্যাপক সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও গত কয়েকদিনে স্থানীয় ভাবে পালিত কোরবানির পশু চড়া দামে বিক্রি হওয়ায় চাষীরা বেশি খুশী।
 
প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং রাতদিন সড়ক ও মহাসড়কে পশু পরিবহণ নিশ্চিত ও স্বাভাবিক রাখতে টহল অব্যাহত রেখেছে।
 
এছাড়া জাল নোট ও প্রতারণা ঠেকাতে গবাদি পশু মার্কেট গুলোতে স্কিনিং মেশিন বসিয়েছে।
 
পশু মার্কেট সূত্র জানায়, কৃষকরা গরু, ছাগল মহিষ ও ষাঁড় বিক্রি করে গত বছরের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ অধিক মূল্য পাচ্ছেন।
 
অপরদিকে বড় ব্যবসায়ীরা স্থানীয় মার্কেট থেকে কেনা পশু রাজধানী ঢাকা এবং বিভাগের অন্যান্য স্থানে সরবরাহ করছে।
 
রংপুরে লালবাগ পশু মার্কেটের পশু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী, জাহিদুর রহমান ও রহিম মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে তাসত্ত্বেও প্রতিটি পশু গতবারের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
 
গরু চাষী আবুল হোসেন বলেন, তার ষাঁড় বিক্রি হয়েছে ৯০ হাজার টাকায় এবং কৃষক আবু মিয়ার বলদ বিক্রি হয়েছে ৪২ হাজার টাকায়। এতে তাদের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো লাভ হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার বিশেষ বড় ষাঁড় বিক্রি ৬৫ থেকে ৯০ হাজার টাকায় গতবছর যার মূল্য ছিল ৬০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। এছাড়া ৫০ ও ৬০ হাজার টাকায় এবার যে সব ষাঁড় বিক্রি হয়েছে গতবছর এগুলোর মূল্য ছিল ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। মধ্যম আকারের ষাঁড় বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪৮ হাজার টাকায় গত বছর এর মূল্য ছিল ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এর চেয়ে ছোটগুলো ৩২ থেকে ৩৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে গতবছর এর দাম ছিল ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বড় সাইজের ছাগল বিক্রি হয়েছে ১৮ থেকে ২২ হাজার টাকায়, মধ্য আকারের ছাগল ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় এবং ছোট আকারের ছাগল বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা।