ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মেয়ের পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে থানা-পুলিশ মামলা না নিয়ে মীমাংসার জন্য লোক ধরিয়ে দিয়েছেন।
ধর্ষিতার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে স্থানীয় কুরচাই এমকেএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী বসত ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির উঠানে নলকূপ থেকে পানি আনতে যাচ্ছিল। এ সময় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী পার্শ্ববর্তী বেলদিয়া গ্রামের ওয়াহেদ আলী (৪৬), রুবেলের (২০) নেতৃত্বে দুই/তিনজনের একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ওই স্কুলছাত্রীর মুখ ও হাত-পা বেঁধে অপহরণ করে বকুলতলা-কদমতলী রাস্তায় পাশের কডরবিল এলাকায় নিয়ে গণধর্ষণ করে। ওই মেয়ের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী তিন ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর রাত ১১টার দিকে উড়না দিয়ে হাত বাঁধা অচেতন ওই মেয়েকে উদ্ধার করে।
ওই মেয়ের মা বলেন, ‘আমার মেয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার পর শুধু মা মা বলে দুইবার ডাক শুনতে পাই। খবর দিলে বাজার থেকে আমার স্বামী ও ছেলে এসে প্রতিবেশী লোকজন নিয়ে খোঁজাখুঁজি করে তিন ঘণ্টা পর প্রায় অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।’
ওই মেয়ের বাবা বলেন, শুক্রবার এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে পাগলা থানার ওসি চাঁন মিয়া তাদেরকে তিন/চার ঘণ্টা বসিয়ে রেখে মোবাইল ফোনে কুরচাই গ্রামের বালু ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার জামাল নামে এক ব্যক্তিকে দুইদিনের মধ্যে সালিশের মাধ্যমে এ ঘটনার বিচার করতে বলে। এরপর ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলে ওই ছাত্রীর বাবাকে ওসি থানা থেকে বিদায় দেন।
ধর্ষিতার ভাইয়ের অভিযোগ, এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে গলা কেটে হত্যা করা হবে বলে সন্ত্রাসী দলটি হুমকি দিয়েছে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, এরা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দলের সদস্য। এই সন্ত্রাসী দলের বিরুদ্ধে খুন ও ডাকাতিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। বানার নদীতে বালু মহাল পাহারা দেয়ার নাম করে সব সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ায়।
ঠিকাদার জামাল উদ্দিন বলেন, ‘পাগলা থানার ওসি চাঁন মিয়া তাকে এ ঘটনা মীমাংসার দায়িত্ব দিয়েছেন।’
নিগুয়ারি ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘ধর্ষিতার পরিবার ও এলাকাবাসী এ ঘটনা আমাকে জানিয়েছিল। শুক্রবারই এ ঘটনায় মামলা হওয়ার কথা ছিল। এখন শুনছি ঠিকাদার জামাল এ ঘটনায় সালিশ-দরবার করবে।’
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চাঁন মিয়া বলেন, ‘ধর্ষণ নয়। ধস্তাধস্তি-টানা হেচঁড়া ও কাপড় ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা হতে পারে। স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসার পরামর্শ দিয়েছি।’
ইত্তেফাক/এএসএমইউ