রাজধানীর কোরবানির হাট জমজমাট

 
জমে উঠেছে রাজধানীর কোরবানির হাট। এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মোট ২৪টি পশুর হাটের ইজারা দেয়া হয়েছে। শর্তানুযায়ী এসব হাটে পশু কেনা-বেচা হবে ঈদের ৩ দিন আগে থেকে। সেই হিসেবে শনিবার হাটে পশু কেনা-বেচা শুরু হয়।
 
এ বছর নির্ধারিত সময়ের ৫ দিন আগে থেকেই হাটে কোরবানির পশু উঠানো শুরু হয়। বিশেষ করে গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে গরু কেনা-বেচা শুরু হয়েছে। রাজধানীর পুরান ঢাকার বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাড়িওয়ালারা তাদের পছন্দমতো গরু কিনে বাসার সামনে বেঁধে রেখেছেন।
 
হাটগুলোতে উঠেছে পর্যাপ্ত গরু। আজ রাজধানীর পশুর হাট জমজমাট দেখা গেছে। কিন্তু সেখানে রয়েছে নানা অব্যবস্থাপনা। হাট ব্যবস্থাপনায় ইজারাদাররা মানছেন না কোনো নিয়মনীতি। নির্দিষ্ট সীমানা পেরিয়ে যত্রতত্র পশু বেঁধে রেখেছেন। হাট বসানো হয়েছে রাস্তার ওপর। বন্ধ রয়েছে চলাচল। ফলে হাট ও হাটের আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। কিছু কিছু এলাকায় বাড়ির প্রবেশ গেট ও চলাচলের রাস্তায় গরু বেঁধে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
রাজধানীর ধোলাইখালসংলগ্ন সাদেক হোসেন খোকা মাঠ, শাহজাহানপুর, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট, শ্যামপুর, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, কমলাপুর, ঝিগাতলা পশুরহাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ গরু উঠেছে। দুপুরের পর থেকেই ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। ক্রেতাদের অনেকেই ঘুরে ঘুরে পশু দেখেন আর দরদাম করেন। কেউ কেউ গরু পছন্দের পর দরদাম ঠিক করে গরু কিনে নিয়ে যান। 
 
এবার হাটে দেখা গেছে, বেশিরভাগ গরু দেশীয়। সিরাজগঞ্জ, ফরিদপুর, রংপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আনা হয়েছে এসব গরু। রাজধানীর ধোলাইখালসংলগ্ন সাদেক হোসেন খোকা মাঠে প্রতিবছরের মতো এবারো পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। 
 
শর্তানুযায়ী, এই মাঠের মধ্যেই হাট সীমাবদ্ধ থাকার কথা। আর হাট বসার কথা ঈদের ৩ দিন আগে। কিন্তু ঈদের ৫ দিন আগে বৃহস্পতিবার রাতে দেখা গেছে, হাটের গরু মাঠের বাইরে চলে গেছে। ধোলাইখাল সড়কের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে প্রধান কাউন্টার। সড়কে গর্ত করে স্থাপন করা হয়েছে বাঁশের খুঁটি। এসব খুঁটিতে পশু বাঁধা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেপরোয়া ইজারাদার কিছুতেই মাঠের মধ্যে তার হাটটি সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছেন না। গতবারের মতো এবারো প্রধান সড়কের ওপর হাট বসিয়ে দেয়া হয়েছে।
 
স্থানীয় বাসিন্দা রহমান মিয়া বলেন, ইজারাদাররা অত্যন্ত প্রভাবশালী। সিটি করপোরেশনের কোনো শর্তই তারা মানছে না। এ কারণে এলাকার মানুষও কিছু বলছে না। মানুষের এ দুর্ভোগ লাঘবে সিটি করপোরেশন লোক দেখানো তত্পরতা ছাড়া কিছু করতে পারছে না।
 
হাটের সীমানা নিয়ে এই অরাজকতা শুধু ধোলাইখালেই নয়, ঢাকার ২৪টি হাটের অধিকাংশেই এ অবস্থা বিরাজ করছে। দনিয়া হাটটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বসানো হলেও এটাকে মহাসড়কের ওপর নিয়ে আসার পাঁয়তারা চলছে। গতকাল দেখা গেছে, রাস্তার ওপর খুঁটি পুঁতে রাখা হয়েছে। কিছু কিছু গরু বেঁধেও রাখা হয়েছে। কমলাপুর বক্স কালভার্ট সড়ক বন্ধ করে দিয়ে পোঁতা হয়েছে অসংখ্য বাঁশের খুঁটি। সেখানেও গরু বেঁধে রাখা হচ্ছে। কমলাপুর থেকে মুগদা স্টেডিয়াম পর্যন্ত প্রধান সড়কের দুধারে গরু বাঁধার আয়োজন চলছে। অলিগলি ও সড়ক বন্ধ করে হাট বসানো হয়েছে শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘের খেলার মাঠেও। 
 
পোস্তগোলায় শ্মশানঘাট থেকে বুড়িগঙ্গার পাড় ধরে শ্যামবাজার ও সদরঘাটের দিকে যাওয়া সড়কের বেশিরভাগ বন্ধ হয়ে গেছে। গরু রাস্তায় চলে এসেছে শ্যামপুর হাটেরও। অন্যদিকে উত্তরা আবাসিক এলাকার হাটটি সীমানা ছাড়িয়ে বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে। বাড্ডা ও ভাটারার হাটও ঢুকে পড়েছে অলিগলিতে।
শাহাজাহানপুরে হাটে চলছে গরু কেনা-বেচা। ক্রেতাদের অনেকেই পছন্দমতো গরু কিনতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাটে এসেছেন। স্ত্রীকে নিয়ে মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা জাফর ইমাম এই হাটে এসেছেন গরু কিনতে। ২ ঘণ্টা ঘুরে দেখার পর ৬৫ হাজার টাকায় কিনেছেন ১টি গরু। তিনি জানান, এ বছর আগেভাগেই এসেছি গরু কিনতে। এ বছর গরুর দাম কিছুটা বেশিই বলে জানান তিনি।
ফরিদপুরের বাসিন্দা মাঈন উদ্দীন নিজের পালা ২টি দেশি গরু বিক্রির জন্য হাটে এনেছেন। তিনি প্রতিটি গরুর দাম হাঁকছেন ২ লাখ ৪০ হাজার। ক্রেতাদের অনেকেই সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা দর করেছেন। এ দামে গরু বিক্রি করতে রাজি নন তিনি।
নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজের পালিত ৪টি গরু নিয়ে বুধবার শ্যামপুর হাটে এসেছেন সোহেল রানা। তিনটি গরু বিক্রি করেছেন তিনি। ৫০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা মূল্যে এসব গরু বিক্রি করেছেন তিনি। সিদ্দিরগঞ্জ থেকে মনির মোক্তার অনেক সময় ঘোরাঘুরি করে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে পছন্দমতো একটি গরু কিনেছেন। তিনি জানান, ভাবছিলাম এ বছর গরুর দাম বেশি হবে। কিন্তু পছন্দের গরু এত কম দামে কিনতে পারব সেটা ধারণা করতে পারিনি। গরু কিনতে পেরে খুশি তিনি।
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খালিদ আহমেদ বলেন, ইজারার শর্তানুযায়ী, কোনো হাটই নির্ধারিত সীমানার বাইরে আসতে পারবে না। এ জন্য আমাদের মোবাইল কোর্ট তত্পর রয়েছে। তারা দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযান চালিয়ে দনিয়া ও শ্যামপুর হাটের গরু প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।